তুরাগ নদে নৌকা ডুবিতে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

উদ্ধার অভিযান স্থগিত, শুরু হবে ফের সকালে

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:50 PM, 09 October 2021

সাভারে তুরাগ নদে এলাকায় বালুভর্তি দুই বাল্ক হেডের চাপায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা ডুবিতে ৭ জন নিখোঁজ হন। শেষ খবরে জানা গেছে এখন পর্যন্ত এক নারী ও চার শিশুসহ পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল। এখনও আরও দুই জন নিখোঁজ রয়েছেন। রাত হয়ে যাওয়ায় আলোক স্বল্পতার কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। রাত পোহালে রোববার সকাল থেকে নিখোঁজ বাকী ২ জনের উদ্ধারে কাজ করবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আজ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাভারে আমিনবাজার তুরাগ নদে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা কেবলার চর থেকে গাবতলীর দ্বীপনগর পাড়ে যাওয়া সময় নদীর মাঝপথে পৌঁছালে উভয় দিক থেকে দুই বালুভর্তি বাল্কহেড যাত্রীবাহী নৌকার ওপর উঠে যায়। এসময় অনেকে সাঁতরে তীরে পৌঁছালেও পাঁচ শিশু ও দুই নারী নিখোঁজ হন। নিখোঁজরা মুলত সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। কয়লার কাজ করতে তারা সিলেট থেকে এসেছিলে এই এলাকায় এসে কাজ করত। সকলেই আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী গ্রামে ভাড়া থাকতেন বলে জানা গেছে। নৌকা ডুবিতে আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকার চমক জান নামে এক নারী দুই মেয়ে ও তিন নাতিকে হারিয়েছেন। মেয়েরা হলেন সোয়ালা (২০), রুপায়না (২৪) এবং তিন নাতি জেসমিন (২), আরমান (৫) ও ইমরান (৪)। চমক জানের মেয়েরা নদীর পাশে কয়লা লোড আনলোডের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। নৌকা ডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা কাবিল হোসেন (২৬) নামে এক ব্যক্তি জানান, ভোর সাড়ে ৫ টায় বড়দেশী গ্রাম হয়ে কেবলারচর থেকে গাবতলীর দ্বীপনগরে কাজের জন্য প্রতিদিনের মতো ট্রলারযোগে গাবতলীর উদ্দশ্যে রওয়ানা দেন। তুরাগ নদীর মাঝখানে আসলে বালুভর্তি বাল্কহেড দ্রুতগতি ট্রলারে সামনে চলে আসে। এসময় ট্রলারটি একটু পিছনে চলে আসে। তখন পিছন দিক থেকে আসা আরেকটি বালু ভর্তি বাল্কহেড ধাক্কা দেয়। এসময় দ্রতগতির সামনে থাকা বাল্কহেডটি ওপর উঠে গেলে আমাদের ট্রলারটি ডুবে যায়। আমি ছেলে সায়েমকে নিয়ে কোনরকমে সাঁতরে তীরে উঠি। বাকিদের ভাগ্যে কী জুটেছে তা সবাই জানেন। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোঃ প্রিন্স হাওলাদার জানান, যাত্রীবাহী ট্রলারটিতে শিশুসহ মোট ১৮ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই দিনমজুর শ্রমিক। ট্রলার ডুবে গেলে ১১ জন সাতঁরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হয় সাত জন। খবর পেয়ে সাভার ও হেডকোয়ার্টার ফায়ার সার্ভিসসহ একাধিক ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পাশাপাশি সাভার থানা ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সহযোগীতা করেন। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ পরিচালক দীন মনি শর্মা জানান, নিখোঁজ চার শিশু ও এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। বাকীদের উদ্ধার করতে রোববারও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। নৌ বাহিনীসহ ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করেছেন। ঢাকা বিভাগের নৌ পুলিশের সিনিয়র পুলিশ সুপার খন্দকার ফরিদুল ইসলাম ফরিদুজ্জামান ফরিদ জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। উদ্ধার করা মরদেহের পরিচয় সনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা ডুবির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ পক্ষ থেকে যুগ্ম পরিচালক ফজলুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান বিআইডব্লিউটিএ এর যুগ্ম পরিচালক ফজলুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া ট্রলারে কোন মরদেহ পাওয়া যায়নি। আমিনবাজার নৌ পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করবে। আপনার মতামত দিন

আপনার মতামত লিখুন :