‘তালের ডোঙ্গা’ বদলে দিয়েছে অমল বকসীর ভাগ্য

152

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি:গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ‘তালের ডোঙ্গা’। তাল গাছ দিয়ে তৈরি এক ধরণের বিশেষ নৌকার নাম ‘তালের ডোঙ্গা’। যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই ‘তালের ডোঙ্গা’ বানিয়ে যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নে রাজাপুর গ্রামের অমল বকসী (৫০) হয়েছেন স্বাবলম্বী। তিন সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে করেছেন প্রতিষ্ঠিত, দিয়েছেন বিয়ে।
‘তালের ডোঙ্গা’ তৈরির কারিগর অমল বকসী বলেন, ভবদহের সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলে ‘তালের ডোঙ্গা’র চাহিদা এখনও আছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আমি এ পেশার সাথে জড়িত। নিজ বাড়িতে দুইজন সহযোগিকে নিয়ে তাল গাছ দিয়ে ‘তালের ডোঙ্গা’ তৈরি করে আসছি। পানিবন্দি এলাকায় যাতায়াতের একটি স্বল্প মূল্যের বাহন ‘তালের ডোঙ্গা’। ১২ মাস কেনাবেচা হয়। একটি নৌকা তৈরি করতে সময় লাগে তিনদিন। যা পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। সপ্তাহের প্রতিদিন কাজ করার চেষ্টা করি। শীত মৌসুমে বিক্রি কম হলেও বর্ষা মৌসুমে চাহিদা ও দাম বেড়ে যায়।
দুইজন সহযোগিকে নিয়ে প্রথমে তাল গাছ ক্রয় করা হয়। এরপর স’মিলে নিয়ে গাছের গোঁড়ার ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত কেটে আলাদা করা হয়। কাটা অংশ স’মিলে নিয়ে মাঝ বরাবর চেরাই করানো হয়। একটি তাল গাছ দিয়ে দুইটি ডোঙ্গা তৈরি করা যায়। এরপর চেরাই করা গাছের ভেতরের অংশ কেটে পরিস্কার করা হয়। পরবর্তীতে ডোঙ্গার ভিতর ও বাইরের অংশের খাঁজ মসৃণের কাজ করা হয়। তিন দিনে তৈরি হয়ে যায় ‘তালের ডোঙ্গা’। যা এক বা দুইজন মানুষের জন্য পানিতে যাতায়াতের সহজলভ্য যানবাহন হিসেবে ব্যবহার হয়।
অমল বকসীর আরো বলেন, প্রায় ২০ বছর পূর্বে জলাবদ্ধতার কারণে তলিয়ে যাওয়া জমিতে ফসল করা সম্ভব ছিল না। যেকারণে সংসারে দেখা দেয় অভাব-অনটন। এমনি এক পরিস্থিতির মাঝে বাবার শেখানো ‘তালের ডোঙ্গা’ তৈরি করে বিক্রি করার পরিকল্পনা মাথায় আসে। এরপর থেকে বাড়িতেই তৈরি করে বাড়িতেই বিক্রি শুরু হয়। অদ্যবদি ঐতিহ্যে বাঁচিয়ে রাখাসহ ‘তালের ডোঙ্গা’ বানিয়ে আমি হয়েছি স্বাবলম্বী, পরিবার নিয়ে সুখে আছি। সরকারি সহযোগিতা পেলে ব্যবসা বৃদ্ধির পরিকল্পনা আছে বলে তিনি জানান।