ডিএফসি আদায়ের নামে সুন্দরবনের দুবলায় চলছে ঘুষ বাণিজ্য

11

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:সুন্দরবনের দুবলার চরে শুরু হওয়া শুটকি মৌসুম এখন প্রায় শেষের পথে। শুটকি তৈরি ও প্রক্রিয়াজাত করণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত চরগুলোতে উন্নত পরিবেশ না থাকাসহ চরম অব্যবস্থাপনার কারণে মানসম্পন্ন শুটকি উৎপাদন সম্ভব হয়নি। শুটকি পল্লীর ব্যবসায়ীদের মতে, উন্নত পরিবেশ বজায় থাকলে রপ্তানিযোগ্য শুটকি উৎপাদন করা গেলে সরকারি রাজস্ব আরো বৃদ্ধি পেত। তবে, শুটকি মৌসুমের সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসার কারণে দুবলা টহল ফাঁড়ি কর্মকর্তাসহ সেখানে কর্মরত বনরক্ষীরা সরকারি রাজস্ব আদায়ের কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চলতি মৌসুমে শুটকি পল্লীতে কর্মরত জেলেদের দৈনন্দিন রান্নার কাজে ব্যবহৃত জ্বালানী হিসেবে সুন্দরী কাঠসহ বনের নানা ধরণের সম্পদ ব্যবহারের জন্য (ডিএফসি) সরকারি রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে দুবলা টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় নানা অজুহাতে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য চালাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরে শুটকি পল্লীতে প্রায় ১৬ হাজার জেলের থাকার জন্য ৭১৭টি, মহাজনদের জন্য ৩৫টি বসতঘর ও মৎস্য আহরণ কাজে ৮৫০টি নৌকা ও ট্রলারের অনুমোদন দেয়া হয়। তবে, প্রতিটি ঘর ২৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ অনুসারে তৈরির নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার ভিন্নতা রয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় দুবলার চর, মেহের আলীর চর, আলোরকোল, অফিস কিল্লা, মাঝের কিল্লা, শেলার চর ও নারকেলবাড়িয়ার চরসহ ৬/৭টি চরে গত চার দশক ধরে চলছে দুবলা শুঁটকি পল্লী। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাস চালু থাকে শুঁটকি তৈরির এই মৌসুম। এতে উপকুলীয় এলাকার খুলনা, সাতক্ষীরা, শরণখোলা, বাগেরহাট, মোংলা, রামপাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার জেলে ও ব্যবসায়ীরা শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, শুটকি পল্লীর কয়েকজন মহাজন ও জেলে বলেন, দুবলায় কর্মরত কতিপয় অসাধু বন কর্মকর্তা ও কর্মী সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে অনিয়মের রাজত্ব চালাচ্ছেন। শুটকির পরিমাপ ও নৌকার (বি.এল.সি) লাইসেন্স নবায়ন এবং সুন্দরবনের জ্বালানী ব্যবহারের জন্য (ডিএফসি) সহ নানা ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম করছেন তারা। এমনকি বনজ সম্পদ ব্যবহারের নিয়ম না থাকলেও অস্থায়ী বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে ফাঁড়ি কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে তা ভঙ্গ করেছেন জেলে ও তাদের মহাজনরা। এছাড়া পল্লীতে অবস্থানরত কয়েক হাজার জেলে তাদের দৈনন্দিন কাজে সুন্দরবনের নানা প্রজাতির গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তার জন্য নিয়মানুযায়ী প্রতিজন জেলের অনুকূলে সরকারি রাজস্ব মাত্র ৫৭ টাকা হলেও ফাঁড়ি কর্মকর্তাকে দিতে হয়েছে ৪০০/৫০০ টাকা। এমনকি শুটকি পল্লী থেকে প্রলাদ চন্দ্র রায় লাখ লাখ টাকা গায়েব করে তিনি হজম করছেন। এছাড়া আমরা (জেলেরা) বনরক্ষীদের কাছে নিয়মের কথা বললে তারা নানা অজুহাতে আমাদের পাশ পারমিট (অনুমতি) বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুবলা টহলফাঁড়ির কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় অনিয়মের বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে বলেন, এখানে নিয়মনীতির বাইরে কোন কিছুই করা হচ্ছে না বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বেলায়েত হোসেন জানান, অনিয়মের বিষয়গুলো আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে।