ডাক্তারের অবহেলায় বৃদ্ধের মৃত্যু

প্রতিবাদ করায় দুই ছেলেকে পুলিশে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, তোপেরমুখে দুই ভাইকে ছেড়ে দিলো পুলিশ

খুলনা ব্যুরোখুলনা ব্যুরো
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:15 PM, 10 April 2022
রাজপথ অবরোধ করায় দুই ভাইকে ছেড়ে দিলো পুলিশ

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় বৃদ্ধার মৃত্যু ঘটনার প্রতিবাদ করায় মৃতের দুই ছেলেকে পুলিশে দেয় ডাক্তারা। তারা হলেন- তরিকুল ইসলাম কাবির ও সাদ্দাম হোসেন।

এখানেই শেষ না, মৃত মায়ের মরদেহ আটকে রাখা হয় টানা ১৩ ঘন্টা।এঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে অবরোধ করেন এলাকাবাসী। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মরদেহ হস্তান্তর ও  থানায় আটক দুই ছেলেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

শনিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে মায়ের মরদেহ আটকে রেখে দুই ছেলেকে পুলিশে দেয় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

হাসপাতাল ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর দৌলতপুরের পাবলা কারিকর পাড়ার মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের (৬৭) স্ত্রী পিয়ারুন্নেছা (৫৫) শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মায়ের মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ এনে ইন্টার্ন চিকিৎসক কামরুল হাসানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে ছেলে মোস্তাকিমের। এ ঘটনায় পিয়ারুন্নেছার অপর দুই ছেলেকে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার ১৩ ঘণ্টা পর রবিবার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত পিয়ারুন্নেছার মরদেহ হস্তান্তর করেছে এবং সোনাডাঙ্গা থানায় আটক তার দুই ছেলেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের প্রতিবেশী আলফাত হোসেন লিটন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মায়ের লাশ ও আটক ছেলেদের ছেড়ে দেয়ার দাবিতে দুপুর ৩টা থেকে সাড়ে ৩টায় মহানগরীর নতুন রাস্তার মোড়ে খুলনা-ঢাকা মহাসড়ক আধাঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলাম এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে। সড়ক অবরোধের সময় আটকদের নি:শর্ত মুক্তি ও লাশ ছেড়ে না দিলে দুর্বার আন্দোলনের হুশিয়ারী দেয়া হয়। এরপর থানা পুলিশ আমাদের ডেকে আটককৃতদের ছেড়ে দিয়েছে। এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ হস্তান্তর করেছে।

মুক্তি পাওয়ার পর তরিকুল ইসলাম কাবির বলেন, রাতে মা ছটফট করছিলেন। আমার ভাই বার বার যাওয়ার পরও ইন্টার্ন ডাক্তার আসেনি। মাকে সাথে নিয়ে তার রুমে আসতে বলে। হাসপাতালে থাকা অন্যান্য রোগীর স্বজনরা অনেক অনুরোধ করার পর ডাক্তার মাকে দেখতে আসেন। কিন্তু মা তো ততোক্ষণে মারা গেছেন।

এরপর আমার ছোট ভাই উত্তেজিত হয়ে ডাক্তারদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে এসে ছোট ভাইয়ের পক্ষ থেকে আমি ও আমার আরেক ঢাকা থেকে আসা অসুস্থ ভাই মাফ চাই। কিন্তু তারা আমার অসুস্থ ভাইটিকেও মারধর করে। এমনকি আমার বৃদ্ধ বাবাকেও ইন্টার্নি টিকিৎসকরা মারধর করে। পরে অন্যায়ভাবে আমাদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়।

যারা আমার মায়ের ও আমাদের ছাড়ানোর জন্য কষ্ট করেছেন আন্দোলন করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এদিকে ডাক্তারদের অশোভন আচারণ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করা হলে এভাবে হয়রানী করার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।

কেউ আইনের উর্দ্ধে না উল্লেখ করে এধরণের ঘটনায় চাকরিচ্যুৎ করাসহ লাইসেন্স বাতিলের দাবি করেছেন অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন :