ট্রেন আর থামে না খয়রাত নগর রেলস্টেশনে

26
খয়রাত নগর রেলস্টেশন

ভাষা সৈনিক ও যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী প্রয়াত খয়রাত হোসেনের নামে নামকরণ হওয়া ‘খয়রাত নগর’ রেল স্টেশন। এই স্টেশনে এখন আর থামে না লোকাল কিংবা আন্তনগর ট্রেন। স্টেশনটি সচল না থাকায় স্থানীয় উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এখানকার মানুষ।

সরেজমিনে সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের ওলটপাড়া এলাকায় অবস্থিত এই স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে ময়লা আবর্জনার স্তূপ আর বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে স্টেশন চত্বর।

আধাপাকা টিন শেডের স্টেশন কক্ষগুলো যেন লাকড়ি আর গবাদি পশুর গোবর রাখার ঘরে পরিণত হয়েছে। তবে কক্ষগুলোর পরিচয় হিসেবে টিকিট কাউন্টার, স্টেশন মাস্টার আর বিশ্রামাগারের চিহ্ন যেন এখনো হারিয়ে যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, সাত আট বছর আগে এই স্টেশনে সব ধরনের ট্রেন থামত। লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ টিকিট কেটে ট্রেনে উঠত। এই স্টেশন ব্যবহার করে পাশ্ববর্তী খানসামা, পাকেরহাট, বীরগঞ্জ ও রানীরবন্দর এলাকার মানুষরা সৈয়দপুর, পাবর্তীপুর, ভবানীপুর যেত। জীবিকার জন্য এখান থেকে আলুর বস্তা নিয়ে বিক্রি করা হতো খুলনায়। কিন্তু স্টেশনটি বন্ধ হওয়ার পর সবধরনের কার্যক্রম স্থগিত হয়।

সোনারায় ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার রায় বলেন, স্টেশনের সামনে উত্তরা ইপিজেড। শ্রমিকরা ট্রেন ব্যবহার করে নিরাপদে আসা যাওয়া করতে পারেন এই পথ দিয়ে। ইপিজেডের উৎপাদিত মালামাল এখানে ট্রেনে করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। স্টেশনটি চালু হলে এলাকাটির অর্থনৈতিকভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানাই যেন দ্রুত স্টেশনটি চালু করে আধুনিক মানসম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

প্রয়াত খয়রাত হোসেনের নাতি ইমরান বিন হাসনাত জানান, ‘দাদুকে স্মরণীয় করে রাখতে স্টেশনটি আবারও সচল করা দরকার। তাই স্টেশনটি চালু করে আধুনিক মানসম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানাই। প্রয়াত খয়রাত হোসেন শুধু ভাষা সৈনিক ও যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রীই নন, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক জানান, ভাষা সৈনিক খয়রাত হোসেনকে স্মরণীয় করে রাখতে স্টেশনটি আবারও সচল করা দরকার। তাই স্টেশনটি চালু করে এই এলাকার জীবনযাত্রায় গতি আনতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, ‘দারোয়ানী ও খয়রাতনগর স্টেশন দুটি চালুর ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটি রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তাই একটু সময় লাগতে পারে।’