টানা ২০ বছর পর হত্যা মামলায় এক আসামির ২০ বছরের কারাদন্ড

24

এবিসি নিউজ:টানা ২০ বছর পর যশোরের শাহাদত হোসেন হত্যা মামলার আসামি হারুনুর রশিদকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় জাকির হোসেন নামে একজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। আজ বুধবার(২৭ জানুয়ারি) বিশেষ দায়রা জজ ও স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ সামছুল হক এই রায় দিয়েছেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামি হারুনুর রশিদ সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের আব্দুল ওহাব মোল্যার ছেলে।
খালাসপ্রাপ্ত জাকির হোসেন একই উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের হাসেম আলীর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে শাহাদত হোসেন ২০০০ সালের ২৯ আগস্ট রাত ৯টার দিকে বাহাদুপুর হাই স্কুলের সামনে চা পান করছিলেন। এসময় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা এসে শাহাদতকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। কিন্তু ওই সময় এক সন্ত্রাসির হাত থেকে দা কেড়ে নেন শাহাদত। এতে ভয় পেয়ে সন্ত্রাসিরা পালিয়ে যায়। আর শাহাদত দৌঁড়ে একই গ্রামের নাজির মতিয়ার রহমানের বাড়ির পাশে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর স্থানীয়রা তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিসক মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় নিহত শাহাদতের ভগ্নিপতি যশোর উপশহর ই-ব্লকের মৃত মেহের আলীর ছেলে ফজলুর রহমান পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলাটি প্রথমে তৎকালিন কোতোয়ালি থানার এসআই আলমগীর হোসেন, এরপর এসআই খন্দকার মিজানুর রহমান এবং শেষে এসআই লিয়াকত আলী তদন্ত করেন। তদন্তকালে আরজান আলী, মাহমুদুর রহমানকে একই বছরের ১৬ অক্টোবর আটক করে পুলিশ। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর আটক করা হয় জাকির হোসেন ও হারুনর রশিদকে। এর মধ্যে আটক হারুনর রশিদ শাহাদতকে হত্যার করার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। সে কারণে তদন্ত কর্মকর্তা হারুনর রশিদ ও জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত এবং আরজান আলী, মাহমুদুর রহমানকে অব্যাহতি চেয়ে ২০০১ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। পাশাপাশি হারুনর রশিদ ও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। কিন্তু স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি হারুনর রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমান পাওয়া যায়। সেকারণে হারুনর রশিদকে যাবজ্জীবর কারাদ- ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরো ৬ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়।
পাশাপাশি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় এই মামলার সকল দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।