ঝড় বাতাসে লণ্ডভণ্ড প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

21

সামান্য ঝড় বাতাসে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর নবনির্মিত ৫ টি ঘর। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ওইসব ঘরে থাকা পাঁচটি পরিবার।

ঘটনাটি গত সোমবার দিবাগত রাতে ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘটেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে সামান্য ঝড় বাতাসে ঘরের বারান্দার পিলার ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েছে। উড়ে গেছে পাঁচটি ঘরের বারান্দাসহ ঘরের ছাউনির টিন ও বর্গা। বসবাসের শুরুতেই ঘর ভেঙে পড়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ওই পাঁচটি পরিবারসহ সেখানে বসবাসকারী সকলের মাঝে। শুধু ঝড়ে ভেঙে পড়াই নয়, ক্ষেতের মাঝখানে এসব বাড়ি নির্মাণ করা হলেও সেখানে যারা বাস করবে তাদের চলাচলের জন্য কোন রাস্তাও নির্মাণ করা হয়নি। নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে নির্মাণ শেষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন ঘর পাওয়া ১০০ টি পরিবার।

এই বাড়িগুলো নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, প্রথমে খাস জমি শনাক্ত করে ভূমি অফিস। পরে ওই খাস জমিতে আঁধাপাকা বাড়ি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন।

উপজেলা উপজেলায় মোট ৭৬৯ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য ৭৬৯ টি আঁধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়।

ঝড়ে ভেঙে যাওয়া ঘরের মালিক বিউটি বেগমের (৪৫) সাথে কথা বললে তিনি বলেন, মোক সরকার ঘর দিলো কিন্তু এটা কেংকা ঘর? এনা বাতাসোত মোর ঘরের চালা উঁড়ি গিয়া পুখুরোত পড়লো। ছোলপোল নিয়া আল্লাহকে ডাকিছুনু। আল্লাহ রহম কর, প্রাণে বাঁচি গেলে মুই আর ওই ঘরোত থাকিম না। মোর ছোলপোলকে রক্ষা কর। মুই মনোত নিসো, মাঠোতে থাকিম তাও এঙ্কা ঘরোত যাম না আর। মুই মোর ছোলপোলকে হারাতে চাও না। এগলা মানসোক মারার জন্য করসে।

সুফলভোগী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ সমাপ্ত করা হচ্ছে। পিলারে কোন রড না থাকায় একটু বাতাসেই দুলছে ঘরেগুলো। ঘরগুলোতে এখনি ফাটল ধরছে। এছাড়াও গলে নেই পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। রাস্তা থেকে বহুদূর জমির মাঝখানে এসব ঘর নির্মাণ করা হলেও চলাচলের মতো রাস্তাও নেই। শুরু থেকেই ভালো মানের কাজের দাবি করে এলেও সুফলভোগীদের সেই দাবি রাখেনি কেউ।

সখিনা বেওয়া নামের এক সুফল ভোগী জানান, গত ২১ বছর আগে স্বামী তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করে। সেই থেকেই ঝুপড়ি ঘরেই এক মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন ছিলো তার। ভূমিহীন হওয়ায় জমিসহ পাকা ঘর উপহার পাওয়ার খবরে আনন্দের জোয়ার এসেছিলো। কিন্তু সেই আনন্দই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য ঝড়েই ভেঙে গেছে তার বারান্দার পিলার। উড়ে গেছে স্বপ্নের লাল টিন। কোনোদিন হয়তো এই স্বপ্নের পাকাবাড়ির ইটের নিচেই চাপা পড়ে থাকবে আমার নিথর দেহ।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঘর ভেঙে পড়েছে? কই আমাকে তো কেউ জানায়নি। আমি এখনি খোঁজ নিচ্ছি।