জীবিত থেকেও মৃত:শালিখার প্রতিবন্ধী মোবারক ও মাজু বিবির ভাতা বন্ধ

13

>>নির্বাচন অফিসে ধর্না দিয়েও মেলেনি প্রতিকার
শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি:
শালিখা উপজেলা নির্বাচন অফিসে বার বার গিয়েও কাজ হয়নি, জীবিত থাকতেও নাকি আমি মারা গেছি, যেকারণে আমার প্রতিবন্ধী ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। কান্নাজড়িত কন্ঠে এসব কথা বলেন উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের পুকুরিয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী মোবারক আলী বিশ্বাস (৮৯)। তার একটি পা না থাকায় গত ১৫ বছর ধরে দুটি ক্রাচের উপর ভর করে চলাচল করেন। চার সদস্যের পরিবার নিয়ে অন্যের কাছ থেকে ভিক্ষা করে কোনরকম খেয়ে না খেয়ে চলছে তার সংসার।

জানা যায়, উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পেতেন তিনি কিন্তু গত ছয় মাস ভাতা না পাওয়ায় বারবার উপজেলা সমাজসেবা অফিস ও নির্বাচন অফিসে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অপরদিকে একই ঘটনা ঘটেছে একই উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের শ্রীহট্ট গ্রামের মাজু বিবির সাথে। মাজু বিবি শ্রীহট্ট গ্রামের আত্তাপ মোল্লার স্ত্রী। তাকেও মৃত হিসেবে ধরে নেয়া হয়েছে, যার ফলে তিনিও ভাতা পাচ্ছেন না মাসের পর মাস। ভুক্তভোগী মাজু বিবির ছেলে ফুল মিয়া জানান, আমার মাকে উপজেলা নির্বাচন অফিস মৃত দেখিয়েছে। যারফলে উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে আমার মায়ের নাম কেটে দেয়া হয়েছে। যার বই নম্বর ৪০।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন জানান, আমি এরকম একটি অভিযোগ পেয়েছি কিন্তু তার নাম জানিনা। তবে এ ধরনের ভুলের জন্য আমরা দায়ী না। ৩ নং আড়পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আরজ আলী বিশ্বাস বলেন, এ ধরনের ভুল সত্যিই দুঃখজনক। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আমি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে অনুরোধ করবো। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, এ ব্যাপারে আমি অভিযোগ পেয়েছি, তাদের কাগজ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া কারো জরুরী প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকা নির্বাচন কমিশন অফিসে যেতে হবে। পাশাপাশি এই ভুলের দায় চাপালেন মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারী কর্মীদের উপর।