জনকন্ঠের সাংবাদিক-কর্মচারীর ছাটাই:বিক্ষোভ-সমাবেশ

33

>>পাশে দাঁড়িয়েছেন সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দএবিসি ডেস্ক:বেতন-ভাতা ও ইনক্রিমেন্টের দাবি করায় দৈনিক জনকণ্ঠের ৬০ শতাংশ (শতাধিক) সাংবাদিক-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৫ মার্চ) সকালে চাকরিচ্যুতির নোটিশ পাঠানো হয় তাদের মেইলে। এরপর বিকেলে জনকণ্ঠের সামনে সমবেত হন চাকরিচ্যুতরা। তারা মিছিল করেন। এসময় ভবনের ভেতরে ঢুকতে চাইলে তাদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তারা। সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলন চলছিল।

এসময় ভবনের ভেতরে ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা জনকণ্ঠ ভবনের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছেন, কাউকে ঢুকতে দিচ্ছেন না। চাকরিচ্যুতরা দাবি করছেন মালিক ভাড়া করা গুন্ডা এনেছেন। ভবনের ভেতরে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো কথা বলতে চাইছে না।

দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা থেকে ছাঁটাই হওয়া সাব-এডিটর সাজু আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে আজকের মধ্যে ওয়েজ বোর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। এই পত্রিকা শুরুর পর বছর ছয়েক ভালোভাবে চলেছে। এই গ্রুপের সব পণ্যই লোকসানে। শুধু পত্রিকাই ভালোভাবে চলে। এই পত্রিকার নামে-বেনামে মালিক শত শত কোটি টাকা লোন নেন। তাছাড়া বিভিন্ন প্রণোদনাও পান। কিন্তু সাংবাদিকরা যখন বলেন আমাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেন তখন সেটায় গুরুত্ব দেয়া হয় না। করোনার শুরুর আগে ২৬ মাসের বেতন বাকি পড়েছিল। পরবর্তীতে আমরা আন্দোলন করে, মালিককে বুঝিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই বেতন ধীরে ধীরে পরিশোধ করা হয়। বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে আমাদের কোনো প্রমোশন হয় না।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের জনকণ্ঠ ইউনিটপ্রধান রাজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘ইনক্রিমেন্ট ও প্রমোশনসহ অন্যান্য দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন না করে উল্টো গণছাঁটাই শুরু করেছে। ইতোমধ্যে শতাধিক কর্মীকে মেইলে টার্মিনেশন লেটার (অব্যাহতিপত্র) পাঠানো হয়েছে, যা একেবারে অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অন্যায়। এর মধ্যে আজ সকাল থেকে কোনো কর্মীকে জনকণ্ঠ ভবনে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি ভেতরে বহিরাগতদের দেখা গেছে, বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজকের মধ্যে কর্মী অসন্তুষ্টির সুরাহা না হওয়ায় বিকেল ৪টা থেকে জনকণ্ঠ ভবনের সামনে সমাবেশ শুরু হয়। দাবি আদায়ে কর্মীদের পাশে রয়েছে সাংবাদিক ইউনিয়ন।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, ‘অবিলম্বে গণছাঁটাইয়ের যে নির্দেশ দিয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। ওয়েজ বোর্ডের স্বীকৃতি অনুযায়ী যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করছেন তাদের পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না। মালিক পক্ষকে বলছি আইনসঙ্গগতভাবে সবকিছু মেনে নিন।’

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন-অর-রশীদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোনো ধরনের অপ্রীতিকর কিছু যেন না ঘটে, সেজন্য জনকণ্ঠ ভবনের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

এ সময় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এ জিহাদুর রহমান জিহাদ, প্রচার সম্পাদক আছাদুজ্জামান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন, সাবেক নির্বাহী পরিষদ সদস্য গোলাম মুজতবা ধ্রুব ও দফতর সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী।