ছাত্রীর মেসেঞ্জারে প্রধান শিক্ষক ‘জান আই লাভ ইউ’

910

Last Updated on

>>যশোরে শিক্ষকের প্রেম বার্তার খবর ফাঁসের ঘটনায় তোলপাড়
মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি:‘জান আই লাভ ইউ। আমাকে কষ্ট দিও না। আই মিস ইউ। কিস মি। তুমি কি সত্যি আমাকে একটুও ভালবাস সোনা ? এতদিন আল্লাহকে ডাকলেও তিনি সারা দিতেন। কিন্তু তুমি সারা দিলে না ! ম্যাসেঞ্জারে এমনি কুরুচিপূর্ণ বার্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের প্রেম নিবেদন করে আসছেন শিক্ষক হায়দার আলী নামে এক প্রধান শিক্ষক।
হায়দার আলী যশোরের মণিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি এভাবে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক শিক্ষার্থীর ইনবক্সে আপত্তিকর মেসেজ দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বিদায় নেয়া এক ছাত্রীর সাথে এমন আপত্তিকর বার্তা দেয়ায় সে এটি ফাঁস করে দেয়। সোমবার প্রধান শিক্ষকের এহেন কর্মকান্ডের বিচার চেয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফীর কাছে ভুক্তভোগি দুই ছাত্রী লিখিত আবেদনপত্র দিয়েছে।
এদিকে গত রোববার রাত থেকে ছাত্রীদের সাথে ম্যাসেঞ্জারে প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীর আপত্তিকর কথাবার্তার কয়েকটি স্ক্রীনশর্ট চিত্র ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এনিয়ে সর্বমহলে প্রধান শিক্ষকের অপসারণসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। এমনকি তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও। তারা সন্তানকে স্কুলে পাঠাতেও শঙ্কিত হচ্ছেন।
প্রধান শিক্ষক নিজের ভ্যারিফাইড আইডি থেকে প্রতিষ্ঠানের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত কয়েকজন ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এছাড়া তিনি ম্যাসেঞ্জারে আপত্তিকর ভাষাও ব্যবহার করেন। স্কুল থেকে বিদায় নেয়া শিক্ষার্থীরাও তার হাত থেকে রেহায় পচ্ছে না।
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীর দাবি, কয়েকদিন ধরে তার ব্যবহৃত আইডিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র আইডি হ্যাক করে এসব কাজ করেছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইডি হ্যাক হলে জিডি করতে হয়, তা তিনি জানেন না।
অভিযোগকারি দুই ছাত্রী ছাড়াও অনেকেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (যাদের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত) প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা হয়রানির কথা বলছেন।
এক ছাত্রী জানান, গত আগস্টে তাকে ম্যাসেঞ্জারে আপত্তিকর কথাবার্তা লিখলে সে প্রধান শিক্ষকের আইডি ব্লক করে দেয়। অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, স্যারের এমন কুরুচিপূর্ণ লেখার প্রতিবাদ করলেই বিদ্যালয়ের না আসার হুমকি দিতেন।
আরেক শিক্ষার্থী জানায়, সে বিদ্যালয়ের সভাপতি ইউএনও স্যারকে জানানোর কথা বললেই প্রধান শিক্ষক কিছুদিন চুপ হয়ে যেতেন। কিছুদিন পর থেকে আরেকজনের সাথে এমন আপত্তিকর বার্তা দেয়া শুরু করতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক বলেন, হেড স্যারের আইডিতে নাকি মাসখানেক ধরে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই তিনি রোববার (১৭ মে) পুরনো আইডি ব্লক করে নতুন আইডি খুলেছেন। আমাদের সেই আইডিতে রিকুয়েস্ট পাঠাতে বলেছেন।
এরআগেও চলতি বছরের শুরুতে লিতুনজিরা নামে এক প্রতিবন্ধী ছাত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ছাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত টিম গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।