চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:06 PM, 04 August 2021

চৌগাছা প্রতিনিধি:যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে।
জানাযায়, বিগত দিনে প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবায় ১৩ বারের দেশ সেরা এই মডেল হাসপাতালটি নানা অনিয়ম-দুনীতির কারণে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমে বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ লুৎফুন্নাহার হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই সেবার মানসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি বেড়েছে।
সূত্র জানায়, চলমান করোনাকালীন সময়ে হাসপাতালের ওই কর্মকর্তা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রায় ১০ লাখ টাকার ভুয়া বিল ভাউচার জমা দেন। বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে জানাজানি হলে তিনি সেই বিল ভাউচার দ্রুত ফেরত নিয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিল ভাউচার জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করেছেন সেটি সঠিক নয়। তিনি যশোর আল মদিনা সার্জিক্যাল থেকে গত ২৩ জুন ১৫৮৩ নং ভাউচারে স্টোরাইল গ্লাবস ২০০ পিচ ৭০ টাকা দরে ১৪ হাজার টাকা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ৩০ পিচ ২’শ ৫০ এমএল ২০০ টাকা দরে ৬ হাজার টাকা, ১৫৮৫ নং ভাউচারে স্টোরাইল গ্ল্যাবস ২৮৫ পিচ ১৯ হাজার ৯শ পঞ্চাশ টাকা, ১৫৮৪ নং ভাউচারে স্টোরাইল গ্লাবস ২৫০ পিচ ১৭ হাজার ৫’শ টাকা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ১২ পিচ ২’শ ৫০ এমএল ২ হাজার ৪শ’ টাকা, যশোর একতা স্টোর থেকে ৯০ কেজি ব্লিচিং পাউডার ১০ হাজার ৫’শ টাকা ও হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর্মীর ২০ দিনের দৈনিক মজুরী ৫’শ টাকা হারে ১০ হাজার টাকা প্রদান করে সর্বমোট ৮০ হাজার ৩৫০ টাকার বিল ভাউচার দেন। একদিনেই এক দোকান থেকে তিনটি ভাউচারে সর্বমোট ৫৯ হাজার ৮শ’ ৫০ টাকার স্টোরাইল গ্লাবস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বিল ভাউচার করায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে একদিনেই এক দোকান থেকে তিনটি ভাউচারে সর্বমোট ৫৯ হাজার ৮শ’ ৫০ টাকার স্টোরাইল গ্লাবস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ক্রয়ের ক্ষেত্রে আল মদিনা সার্জিক্যালের ০৪২১৬০৯২৬ নম্বারে যোগাযোগ করা হলে কর্মরত কর্মচারী গাজী আলম জানান, এই বিষয়টি আমাদের জানা নেই। মালিকের সঠিক তথ্য জানাতে পারবেন।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেনি। তাহলে এতো টাকার মালামাল কোথায় গেলো তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আর বাকি ৫৯ হাজার ৬’শ ৫০ টাকার কোনো হিসাব দেখাতে পারেননি ওই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের জনৈক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যে হিসাব দেখিয়েছেন সেটি সম্পুর্ণ মিথ্যা। তিনি যত সামান্য স্টোরাইল গ্লাবস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাসপাতালে জমা দিয়েছেন। বাজারে একটি স্টোরাইল গ্লাবসের দাম ২৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪২ টাকা।
কিন্তু তিনি ৭০ টাকা দরে গ্লাবস কেনার ভাউচারে বিল উত্তোলন করেছেন। এছাড়া হাসপাতালে ডাক্তার নার্সদের মাঝে বিতরণও করেননি। তিনি নিজের ইচ্ছে মতো বিল ভাউচার তৈরি করে টাকা উত্তোলন করেছেন তারা অভিযোগ করেছেন।
এছাড়া ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে তিনি মোটরসাইকেলের তেলের প্রায় লাখ টাকা আতœসাৎ করেছেন বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। কর্মকর্তার জন্য সরকারি ১টি মোটরসাইকেলের বরাদ্দ থাকলেও তিনি যোগদানের পর থেকে কোনো দিন সেটি ব্যবহার করেননি।
কিন্তু ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি ২’শ ৭০ লিটার জ্বালানী পেট্রোল উত্তোলন দেখিয়েছেন। যার মূল্য ২৩ হাজার ২’শ ৭৪ টাকা, মোটরসাইকেলের মবিল উত্তোলন দেখিয়েছেন ৫ লিটার, যার বিল ভাউচার করেছেন ২ হাজার ২’শ ৫০ টাকা। এছাড়া মোটরসাইকেল মেরামত ব্যয় দেখিয়ে সোহেল মোটরসাইকেল সার্ভিসিং সেন্টারের বিল ভাউচারে ৮ হাজার ৮’শ ৭০ টাকার বিল উত্তোলন করেছেন।
মোটরসাইকেল মেরামতের বিষয়ে চৌগাছা পৌরসভার সামনে সোহেল সার্ভিসিং সেন্টারের মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি বেশ কিছুদিন আগে মোটরসাইকেল সার্ভিসিং করিয়েছিলেন। সামান্য কাজ করিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভাউচার নিয়ে গেছেন। তবে তাতে কত টাকা বিল দেখানো হয়েছে তা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ লুৎফুন্নাহারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতিকালে ১০ লাখ টাকার করোনা বিল হিসাবরক্ষণ অফিসে জমাদানের পর ভুল ধরা পড়ে। পরবর্তীতে ওই ভুল সংশোধন করা হয়েছে।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :