চৌগাছায় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা প্রতারকচক্রের পকেটে

53

>>‘নগদ’ একাউন্টে পাঠানো টাকা কিভাবে হাতিয়ে নিলো-তা নিয়ে প্রশ্ন
চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের চৌগাছায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা ‘নগদ’ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে তুলে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের টাকা এভাবে তুলে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন- যে সকল স্কুলে এমন ঘটনা ঘটেছে সেসব স্কুলের শিক্ষকদের আমরা তালিকা দিতে বলেছি। এ বিষয়ে আমরা থানায় জিডি করবো। তিনি আরো বলেন কয়েকটি অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে সতর্ক করে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন আগে ‘বিকাশ বা শিওরক্যাশে’র মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা দেয়া হতো। ‘নগদ’ এ উপবৃত্তির টাকা দেয়ার জন্য ২০২০ সালে রেজিষ্ট্রেশন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন, নাম, শ্রেণী রোল নম্বর, মায়ের ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল সিম নম্বর ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে এই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়।
সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা তাদের মা’দের নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত ওইসব মোবাইলে দেয়া হয়েছে। ওই টাকা তুলতে এজেন্টদের কাছে গিয়ে অভিভাবকরা দেখেন তাদের একাউন্টে টাকা নেই। নগদ থেকে বলছি পরিচয় দিয়ে ওটিপি নম্বর নিয়ে কে বা কারা তাদের টাকা উঠিয়ে নিয়েছে।
উপজেলার সিংহঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সিফাতের মা সেলিনা খাতুন, একই স্কুলের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অন্তরার মা সুফিয়া খাতুন, ১ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিলির মা লাকি খাতুন, ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আরিফা আক্তারের মা মুর্শিদা বেগম, শিশু শ্রেণীর মাহবুবের মা রাজিয়া, ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইকরামুলের মা মনোয়ারা জানান তাদের মোবাইলে ‘নগদ’ থেকে বলছি পরিচয় দিয়ে বলা হয় ‘আপনাদের মোবাইলে কি উপবৃত্তির টাকা গেছে ? টাকা এসেছে জানালে বিপরীত পাশ থেকে বলা হয় তাহলে আপনার ওটিপি নাম্বারটা দিন, আমরা পাসওয়ার্ড সেট করে দিচ্ছি। তাহলে এজেন্টের কাছ থেকে সহজেই টাকা তুলতে পারবেন।’ এসব অভিভাবকরা বলেন এরপর তারা এজেন্টের কাছে টাকা তুলতে গেলে এজেন্টরা বলেন আপনাদের একাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। অভিভাবকরা জানান ওটিপি নম্বর নিয়েই ‘নগদ’ এর পরিচয় দেয়া ওই মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে সিংহঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা খাতুন বলেন, আমার স্কুলের ২০-২৫ জন অভিভাবক এভাবে এসে অভিযোগ করেছেন। আমরা বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি বলেন অনেক অভিভাবকই এসে বলেছেন টাকা এসেছে কিন্তু আমরা তুলতে পারছি না। উপজেলার আরো কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকাও এভাবে প্রতারকরা তুলে নিয়েছে বলে অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন শিওরক্যাশে টাকা দেয়ার সময়ও প্রথম দিকে এভাবে প্রতারকরা উপবৃত্তির টাকা তুলে নিয়েছিলো।
চৌগাছা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের কাছে কয়েকটি স্কুল থেকে অভিযোগ এসেছে। প্রতারণার মাধ্যমে একটি চক্র এভাবে টাকা তুলে নিচ্ছে। শিওরক্যাশে দেয়ার সময়ও প্রথমদিকে এমন হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন ওটিপি নম্বর নিয়ে টাকা তুলে নেয়া মোবাইল নম্বরগুলো এরপর থেকেই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন আমরা উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছি তারা যেন অভিভাবকদের সঠিকভাবে পাসওয়ার্ড সেট করা শিখিয়ে দেন। এছাড়াও যেসব শিক্ষার্থীদের মা’য়েদের নম্বর থেকে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়েছে তারও তথ্য দিতে প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে থানায় জিডি করবো।
উল্লেখ্য এর আগে চৌগাছার বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এনামুল হক এবং তার আগের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম চৌগাছায় নতুন জয়েন করার পরপরই তাদের মোবাইল নম্বর ক্লোন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ দেয়ার নাম করে উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসা প্রধানদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল প্রতারকরা। সেসময়ে এ বিষয়ে চৌগাছা থানায় জিডিও করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।