চৌগাছায় বিজয় জাতের ঝিঙ্গা চাষে অভাবনীয় সাফল্য

23

>>২০ শতক জমিতে ৩ মাসে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি
চৌগাছা প্রতিনিধি:যশোরের চৌগাছার বেশকিছু কৃষক চলতি মৌসুমে লালতী কোম্পানীর বিজয় জাতের ঝিঙ্গা চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। ঝিঙ্গা চাষে তুলনামূলকভাবে ব্যয় কম হওয়ায় লাভ হয়েছে বেশি। যেকারণে অনেকে লালতী প্রজাতির ঝিঙ্গা চাষে ঝুকে পড়েছেন অনেকে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলাতে ৩৫ হেক্টর জমিতে নানা জাতের ঝিঙ্গা চাষ হয়েছে। সকল ইউনিয়নে কমবেশি ঝিঙ্গা চাষ হলেও হাকিমপুর, পাতিবিলা, জগদীশপুর, নারায়নপুর, স্বরুপদাহ ইউনিয়নে তুলনামূলক কিছুটা বেশি ঝিঙ্গার চাষ হয়েছে।
সরেজমিন উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের কান্দি, মির্জাপুর, স্বর্পরাজপুর, জগদীশপুর গ্রামের মাঠে যেয়ে দেখা যায় বিঘার পর বিঘা জমিতে কৃষক ঝিঙ্গা চাষ করেছেন। মাচায় চাষ করা এই সবজি এখন বাজারজাতকরণের উপযুক্ত সময়। প্রতিটি ক্ষেতেই প্রচুর ঝিঙ্গে ধরেছে। কেউ ক্ষেত পরিচর্যা করছেন আবার কেউ ঝিঙ্গে তুলে বাজারে পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।
এনিয়ে কথা হয় মির্জাপুর গ্রামের চাষি শহীনুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, এবছর চৌগাছার মেসার্স বুলু বিজ ভান্ডার থেকে লালতী কোম্পানীর বিজয় জাতের ঝিঙ্গা বীজ সংগ্রহ করে ২০ শতক জমিতে রোপণ করেছি। গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় হতে এ পর্যন্ত ২০ শতক জমি হতে প্রায় ৬০ হাজার টাকার ঝিঙ্গা বিক্রি করতে পেরেছি। সপ্তাহের দুই দিনে ৬ থেকে ৭ মণ করে ঝিঙ্গে বিক্রি করেন বলে জানান এই কৃষক। কৃষক শাহীনুর রহমানের মত ওই মাঠে কৃষক ঠান্ডু মিয়া, মিঠুন, রমজান আলীসহ অনেকে বলেন, ঝিঙ্গা গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি তরকারী, তাই বাজারেও এর রয়েছে বেশ চাহিদা। সে কারণে ঝিঙ্গা চাষ করে কৃষক বেশ লাভবন হচ্ছেন।
লালতী কোম্পানীর যশোরের ডিভিশন্যাল ম্যানেজার কৃষিবিদ এসএম হামিদুল ইসলাম ও রিজিওনাল ম্যানেজার খন্দকার বায়জীদ বোস্তামী বলেন, লালতীর দীর্ঘদিন ধরে কৃষকের মাঝে অত্যন্ত গুণগত মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ করে আসছে। প্রতিনিয়ত গবেষণার মাধ্যমে পরিবর্তিত আবহাওয়া ও জলবায়ুর সাথে মানানসই নতুন নতুন ফসলের বীজ সমুহ উদ্ভাবন করে যাচ্ছে। আমাদের নতুন উদ্ভাবনের মধ্যে অন্যতম একটি বীজ হচ্ছে ঝিঙ্গা বিজয় জাত। ইতোমধ্যে উচ্চ ফলনশীল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

এ বিষয়ে নবাগত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সমরেন বিশ্বাস বলেন, আমি যতটুকু জেনেছি চৌগাছার মাটি সব ধরণের ফসল উৎপাদনে বরাবরই বিখ্যাত। এ জনপদের কৃষক নতুন নতুন ফসল উৎপাদনে বেশ পারদর্শী, সব ধরণের ফসল উৎপাদনে উপজেলা কৃষি অফিস সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।