চৌগাছায় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৪টি মেশিন ও ৫টি বাইসাইকেল জব্দ

22

>>দ্বিতীয় দফার অভিযানেও জড়িতরা পালিয়ে গেল
চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:চৌগাছার বাওড় মৎস্য প্রকল্পের অধীন বেড়গোবিন্দপুর বাওড় থেকে অবৈধভাবে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত চারটি মেশিন ও বালু উত্তোলনকারীদের ফেলে যাওয়া ৫টি বাইসাইকেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এম. এনামুল হক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ণ চন্দ্র পালের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বেড়গোবিন্দপুর বাওড় ব্রিজের পূর্বপাশে বাওড়ের মধ্য থেকে চলমান অবস্থায় এই মেশিন জব্দ করেন। এসময় অভিযানের বিষয় বুঝতে পেরে বালু উত্তোলনকারীরা ৫টি বাইসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। আদালত সেগুলোও জব্দ করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শহর থেকে চাঁদপুর গ্রামের মধ্যদিয়ে বেড়গোবিন্দপুর গ্রামে প্রবেশমুখে বাওড় মৎস্য প্রকল্পের অধীন বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের উপর একটি ব্রিজ রয়েছে। ব্রিজটি থেকে ১৫০/২০০ ফিট পূর্বদিকে বাওড়ের মধ্যে চারটি মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। যাতে ভবিষ্যতে ব্রিজটির স্থায়ীত্ব হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ থাকলেও বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলতে পারছিলেন না। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসায় মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এম. এনামুল হক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ণ চন্দ্র পালের নেতৃত্বে পুলিশ ও আনছার নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়ি বাওড় ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে পৌঁছানো মাত্রই বুঝতে পেরে কয়েক ব্যক্তি মেশিন চালু রেখেই পালিয়ে যায়। এ সময় তারা ৫টি বাইসাইকেল ফেলে যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের রেখে যাওয়া কয়েকশত মিটার পাইপসহ ৪টি মেশিন এবং ৫টি বাইসাইকেল জব্দ করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এম. এনামুল হক জানান, বালু উত্তোলনকারীদের ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পাইপসহ ৪টি মেশিন এবং ৫টি বাইসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার বাওড়ের অপরপাশে অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত শাহজাদপুর ও আজমতপুর গ্রামের পাশের্^ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু জব্দ করেন এসিল্যান্ড নারায়ণ চন্দ্র পাল। সেদিনও বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ফিরে আসার পর ওই স্থানের বালু উত্তোলনকারীরা তাদের ১২টি মেশিনের কয়েকটি বাওড় থেকে সরিয়ে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার বাওড়ের এপারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সংবাদ পেয়ে ওপারে থাকা অবশিষ্ট মেশিনও সরিয়ে নিয়েছে বালু উত্তোলনকারীরা। অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বালু জব্দ করে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিলেও উত্তেলনবারীরা মঙ্গলবারও ওইসব বালুর স্তুপ থেকে বালু বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।