চৌগাছায় তরমুজের চড়া দাম:বিপাকে নিন্ম আয়ের মানুষ

13

চৌগাছা প্রতিনিধি:যশোরের চৌগাছায় মৌসুমী ফল তরমুজ এবার কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দামও বেম চড়া। এরফলে নিন্ম আয়ের মানুষের ভাগ্যেই জুটছে না এই মৌসুমী ফলের।

পবিত্র মাহে রমজানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বিভিন্ন ফল দিয়ে ইফতারী করতে অভ্যস্ত। তাই প্রতিটি পরিবারেই ইফতারে থাকে হরেক রকমের মৌসুমী ফলের সমাহার। এবারের রমজানে মৌসুমী ফলের মধ্যে অন্যতম ফল হচ্ছে তরমুজ। সেই তরমুজর দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক রোজাদার তরমুজের স্বাদ কি তা নিতে পারেনি। বিগত বছর গুলোতে উপজেলার সর্বত্রই তরমুজের ছড়াছড়ি এবং পিচ হিসেবে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চলতি মৌসুমে বাজারে তরমুজের যথেষ্ট যোগান থাকলেও চড়া দামে কিনতে হচ্ছে ওজনে। প্রতি কেজি তরমুজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চৌগাছা বাজারসহ হাকিমপুর, সলুয়া, সিংহঝুলী, পুড়াপাড়াসহ বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। দাম নিয়ে রীতিমত বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন অনেক ক্রেতা। আবার অনেক ক্রেতা কাটা তরমুজ কিনত চাচ্ছেন কিন্তু বিক্রেতা কেটে বিক্রিতে রাজি হওয়ায় শুরু হয়ে যাচ্ছে বাক-বিতন্ডা।
দিনমজুর জাবেদ আলী বলেন, রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে দিন শেষে ৪শ’ টাকা পাই। এই টাকায় চাল ডাল মাছ শাকসবজি কিনে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। তাই তরমুজে হাত বুলিয়ে চলে যাচ্ছি। ১টি তরমুজ ৫/৬ কেজি ওজন। তার দাম হচ্ছে ২০০ হতে ২৪০ টাকা। সারাদিন আয় করছি ৪শ টাকা, আমাদের পক্ষে তরমুজ কেনা কি সম্ভব-প্রশ্ন করেন এই শ্রমিক। ভ্যানচালক আব্দুর রশিদ জানান, দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। ভয় নিয়ে সড়কে আসি, দিন শেষে যা আয় হচ্ছে কোন রকমে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে আছি। এই রোজগারের টাকায় এবছর তরমুজ কিনে খাওয়া সম্ভব হবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ পাইকারী বাজার হতে শ’ হিসেবে কিনে তা বিক্রি করছেন কেজিতে। আমরাও কেজিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। প্রশাসনের বাজার মনিটরিং না থাকায় তরমুজের মতো এরকম অনেক পণ্যের দাম ইচ্ছে মতো বিক্রি করা হচ্ছে।