চৌগাছায় ঘর বানাতে দিয়ে বিপাকে জমির মালিক

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:44 PM, 21 March 2019

>>>প্রতিকারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ভুক্তভোগী পরিবারের
চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় মানবিক দিক বিবেচনা করে এক অসহায় পরিবারকে নিজের জমিতে বসবাস করার অনুমতি দিয়ে এখন জমির মুল মালিক পড়েছেন বিপাকে। আশ্রিতা পরিবারটি এখন তার জমি দাবি করে দখল ছেড়ে দিতে নানা রকম টালবাহানা করছেন। শুধু তাই না সুচতুর অসহায় পরিবারের কর্তা জমির মুল মালিকের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে নাজেহাল করে তুলেছেন। এখানেই তিনি খ্যান্ত হয়নি, সম্প্রতি তিনি সংবাদ কর্মীদের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে জমির মুল মালিকের নামে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করিয়েছেন বলেও ভুক্তভোগী দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চৌগাছা রিপোর্টার্স ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন জমির মুল মালিক উপজেলার বড় কাবিলপুর গ্রামের শমসের আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলার কাবিলপুর মৌজায় আমরা পিতা শমসের আলী ও তিন চাচা আব্দুল হাকিম, উকিল হোসেন, মোক্তার হোসেন ১৯ শতক জমি পৈত্রিক সূত্রে পাই। খতিয়ান নং এসএ ২৬৩, আর এস চুড়ান্ত ৫৬৬,৬১৫, দাগ নং এসএ ৯২১, আরএস চুড়ান্ত ১০৮৩ নং দাগে মোট জমির পরিমান ১৯ শতক। এই জমি আমরা যুগযুগ ধরে ভোগদখল করে আছি। আজ থেকে ৭/৮ বছর পূর্বে ওই জমির উপর একটি কাচা ঘর তৈরি করা হয়। ওই সময় এক কালবৈশাখী ঝড়ে জমির পাশে বসবাসকারী আছের আলীর ছেলে রুপচাঁদ মন্ডলের বসতবাড়ি তছনছ হয়ে যায়। এ সময় তিনি অতি কষ্টে দিনযাপন করতে থাকেন। দু’একদিন পর রুপচাঁদ আমাদের বাড়িতে এসে বলেন, ঝড়ে তো আমার সব শেষ হয়ে গেছে, পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। তাই তোমাদের জমিতে একটি ঘর বানিয়ে কিছু দিন থাকতে চাই। এরপর নিজের বাড়ি ঠিক করে সেখানে চলে যাবো। সহজ সরল মনে জমির মালিকরা তাকে ওই জমির উপর কাচা ঘর বানিয়ে থাকার অনুমতি দেন। এরপর কেটে গেছে অনেক বছর। রুপচাঁদ নিজের বাড়িতে যায় না। একদিন আমরা তাকে জমি খালি করে দিতে বললে তিনি বলেন, এ জমি তো আমার। মুলত: এরপর হতে তার সাথে আমাদের বাদানুবাদ শুরু। কিন্তু সে কিছুতেই জমি ছেড়ে যেতে নারাজ। এ ঘটনা নিয়ে গ্রাম্য অনেক শালিস বিচারও হয়েছে, সেখানে জমি ছাড়ার কথা বলে এলেও পরবর্তীতে আর জমি থেকে যেতে চাইনি। এরই মধ্যে রুপচাঁদ মন্ডল জমি তার নিজের দাবি করে মহামন্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সে কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মামলা খারিজ হয়ে যায়। তার পরপরই আমরা জমি থেকে উচ্ছেদের জন্য আদালতে একটি মামলা রুজু করি। যা এখনও মহামান্য আদালতে চলমান। রুপচাঁদ জমি ছেড়ে চলে যাওয়া তো দুরের কথা, তিনি পুনরায় যশোরের পুলিশ সুপার বরাবর আমাদের সকলের নামে একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
তিনি এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় মুক্তার হোসেন, উকিল হোসেন, আশরাফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :