চৌগাছায় উদ্ধার লাশের পরিচয় মিলেছে

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:46 PM, 13 July 2021

এবিসি ডেস্ক:যশোরের চৌগাছায় একটি পাটক্ষেত থেকে মুখমন্ডল স্কচটেপে জড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় মিলেছে। লাশটি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া ইউনিয়নের বাজিপোতা গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহমুদ হাসান রাতুলের (১৭)। সে গ্রামের এমপিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তবে স্কুলটির বর্তমান সভাপতি তারই পিতা মহিউদ্দিনের ছেলে। এমবিপি বিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো রাতুল। আরও খবর>>চৌগাছায় চোখ মুখ নাক স্কচটেপে জড়ানো অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

রাতুলের পিতা মহিউদ্দিন বলেন, রোববার দুপুর আড়াইটা-তিনটার দিকে বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে একটি ইজিবাইকে চড়ে মহেশপুরের দিকে যায় রাতুল-স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন। এরপর সে আমাকে ফোন দেয়নি। পরে সন্ধ্যায় একটি প্রয়োজনে আমি তাকে ফোন করি। তখন ৩৫/৪০ সেকেন্ড তার সাথে কথা বলি। আমাদের পেয়ারা ক্ষেতে জনের (মজুর) বিষয়ে কথা বলি। আমি তাকে বলি অমুক (পেয়ারা ক্ষেতের কামলা) তো কাল পেয়ারা তুলে দিতে পারবে না। অন্য লোক দেখতে হবে। সে বলে আচ্ছা বাবা আমি দেখছি। তারপর আর কথা হয়নি। পরে বাড়ি না ফেরায় কল করে ফোন বন্ধ পাই। আমার ভুল হয়েছে তখন আমি জিজ্ঞেস করিনি তুমি কোথায় আছো? বাড়ি আসবে কখন? এরপর রাতে সে বাড়ি ফেরেনি। ফোনও বন্ধ ছিলো। সেদিন ইউরো চ্যাম্পিনশিপে ইংল্যান্ড-ইতালির ফাইনাল খেলা ছিলো। আমি রাত জেগে খেলা দেখেছি। রাতুল বাড়ি না আসায় মনে করেছিলাম ওর সহপাঠি মোজাফফরের (সম্পর্কে চাচা হয়) বাড়িতে বসে খেলা দেখে রাত হওয়ায় বাড়ি ফেরেনি। সকালে আসবে। সোমবার সকালে উঠে আমি পেয়ারা ক্ষেতে চলে যাই। সেখান থেকে দুপুর ১২টার দিকে বাড়ি ফিরে দেখি রাতুল ফেরেনি। তখন ওর মা আমার মোবাইল নিয়ে রাতুলকে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েও তাকে পাইনি। তখন আমার মনের মধ্যে কিছুটা ভয় কাজ করতে থাকে। ইউপি চেয়ারম্যানসহ শুভাকাঙ্খীদের বলি থানায় জিডি করে আসি। তখন তারা বলেন শুভাকাঙ্খীরা বলে আরেকটু খুঁজে দেখি। সে তো কোথাও চলে যাওয়ার মত ছেলে না। কোথাও নিশ্চয় আছে। চলে আসবে। পরে রাত ৮টার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে পাশের বাড়ির একটি মেয়েকে ফোন করে বলা হয় রাতুল এখন আমার কাছে আছে। মেয়েটি ভাইয়াকে দেন, বলতেই ওপাশ থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এরপর থেকে ওই নম্বরটি বন্ধ আছে। এর কিছুক্ষণ পর পাশের বাড়ির আরেকটি মেয়ে তার ফোন নিয়ে এসে আমাকে দেখায়। বলে চাচা এই লাশটি চৌগাছায় পাওয়া গেছে। দেখেন তো এটি রাতুল ভাইয়ার কিনা? তখন আমি চিনতে পারি। পরে রাতেই চৌগাছা থানায় এসে মৃতদেহ শনাক্ত করি।

তিনি বলেন, রাতুলের হাতে একটি নতুন মোবাইল ফোন ছিলো। যেটি গত ৩ জুলাই সাড়ে ষোলো হাজার টাকা দিয়ে কিনে দিয়েছি। সেটিও পাওয়া যায়নি। ফোনটিতে যে দুটি সিম রয়েছে সেদুটিও রাতুলের মা’র নামে।

তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে সাথে বা আমার সাথে রাজনৈতিক, ব্যবসা বা আত্মীয়তার কারণে কারো কোনো শত্রুতা নেই। তবে ওর বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজনের বিষয়ে আমার সন্দেহ হয়। ইদানিং মহেশপুরে রাতুল যাদের সাথে মিশছে। তাদের নাম মামলায় দেবো। সন্দেহ করছি এটা কাঁচা হাতের কাজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্যোগী হলে দ্রুতই অপরাধীরা ধরা পড়বে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌগাছা থানার এসআই আতিকুর রহমান বলেন, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারের সময় তার শরীরের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিলো না।

চৌগাছা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম কিবরিয়া বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্য কোথাও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এখানে এনে ফেলে রাখা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে সঠিক বলা যাবে।

তিনি বলেন, আশা করছি দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন হবে।

 

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :