চৌগাছায় আ’লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে স্বেচ্ছাচারিতা!

কেন্দ্রে অভিযোগ পাঠানোর প্রস্তুতি বিক্ষুব্ধদের

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:08 PM, 09 October 2021
আ’লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আসছে আগামী ১১ নভেম্বর ২য় ধাপে চৌগাছায় ইউপি নির্বাচন। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের প্রার্থীদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রার্থী বাছাইয়ে সম্পৃক্ত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে উঠেছে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ। বেশ কয়েক প্রার্থী এই অভিযোগ করে বলেছেন তারা কেন্দ্রে অভিযোগ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তাঁরা বলছেন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আগেই হুঁশিয়ারী দিয়েছেন প্রার্থী বাছাইয়ে কোন রকম অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের পদপদবীধারী এসব নেতা মনে করেন কেন্দ্রীয় সম্পাদকের হুঁশিয়ারীর প্রতি তোয়াক্কা না করে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ গতবারের বিদ্রোহী, দলে পদপদবী নেই, বা নির্বাচন করতে চান না এমন সব প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন।

গত ৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে বলেন ‘অনিয়ম করে যারা প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। তাঁর এই বক্তব্যে নড়েচড়ে বসেছেন নির্বাচন করতে ইচ্ছুক অথচ কেন্দ্রে নাম পাঠানো হয়নি এমন সব নেতারা। তাঁরা প্রার্থী বাছাইয়ে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় অভিযোগ আকারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি পাতিবিলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও গতবারের নৌকার প্রার্থী সহিদুল ইসলাম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবীর সোহেল, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য জগদীশপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য প্রভাষক হারুন অর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও চৌগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক অমেদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১নং ফুলসারা ইউপিতে একমাত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবীর সোহেল ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য প্রভাষক হারুন অর রশীদ জীবনবৃত্তান্ত জমা দিলেও তাঁদের নাম পাঠানো হয়নি।
সিংহঝুলি ইউপিতে গতবারের বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ইউনিয়নটির ৫ জনের নাম পাঠানো হলেও সাবেক চেয়ারম্যান ও গতবারের নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক রেজাউর রহমান রেন্দু বা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল হামিদ মল্লিকের নাম পাঠানো হয়নি।

ধুলিয়ানীতে এক নম্বরে ঠিকাদার এসএম আব্দুস সবুরসহ ৪জনের নাম পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে গতবারের বিদ্রোহী প্রার্থীর নাম থাকলেও গতবার নৌকার প্রার্থী হয়ে সামান্য ভোটে পরাজিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলাউদ্দিনের নাম পাঠানো হয়নি।

জগদীশপুরে নৌকার চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সম্পূর্ণ নতুন দু’জনের নাম পাঠানো হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং সাবেক ইউপি চেয়াম্যান সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের নাম পাঠানো হয়নি।

পাতিবিলায় সম্পূর্ণ নতুন তিনজনের নাম পাঠানো হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান গতবারের নৌকার প্রার্থী সহিদুল ইসলাম মিয়ার নাম পাঠানো হয়নি।

হাকিমপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক দু’জন এবং এক সদস্য নাম পাঠানো হলেও এক নম্বরে দেয়া হয়েছে মাহফিজুর রহমান ডেভিড নামে এক ব্যক্তির নাম। যিনি প্রথম থেকে নির্বাচন করতে মাঠে ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বরুপদাহে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার হোসেনের নাম পাঠানো হয়েছে এক নম্বরে। সেখানে গতবারের নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদকের নাম পাঠানো হয়েছে চার নম্বরে।
নারায়নপুরে নৌকার চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মুকুল এবার নির্বাচন করছেন না। সেখানে এক নম্বরে নাম পাঠানো হয়েছে আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তির। তিনি আওয়ামী লীগের পদপদবীতে নেই বা নির্বাচন করতের মাঠে ছিলেন না বলে অভিযোগ। অথচ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম সরকার বা চৌগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা প্রভাষক অমেদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকলেও তাঁদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি।

একইভাবে সুখপুকুরিয়ায় বিদ্রোহী চেয়ারম্যান তোতা মিয়ার নাম এক নম্বরে রেখে তাঁর ছেলে তাজুল ইসলাম তিতাস ও এক ইউপি সদস্যের নাম পাঠানো হয়েছে। অথচ গতবার সামান্য ভোটে পরাজিত নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য চাঁদনী কবীর এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমানের নাম পাঠানো হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রভাষক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘দীর্ঘ দিন রাজনীতি করেও শুধু ব্যক্তি আক্রোশে আমার নাম পাঠানো হয়নি।’

ফুলসারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২১ বছরের সভাপতি শের আলী বলেন, কেন আমাদের নাম যাবে না ? আমরা কি আওয়ামী লীগের কেউ না ?
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোহেল বলেন, ‘আমার নাম কেন পাঠানো হলোনা কার কাছে জানতে চাইবো ?’

উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান বলেন, ‘আমার নাম না পাঠানো হলেও গতবারের বিদ্রোহী প্রার্থী তোতা মিয়া এবং দলে নাম পরিচয় বিহীন তাঁর ছেলের নাম পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, দলের রেজুলেশন হয়েছে সেটিই জানি না। কোন সভা ছাড়াই প্রার্থী যাচাই বাছাই হয়েছে। তিনি বলেন দল থেকে সিভি চেয়েছিল, জমা দেওয়ার পরও আমার নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুল আলম রিংকু বলেন সভা ডেকে রেজুলেশন করা হয়নি জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতির এ অভিযোগ সঠিক। কেন হয়নি তা উপজেলা সভাপতি ও সম্পাদক বলতে পারবেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলসারা ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো নাম পাঠাতে চেষ্টা করেছি।’
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব) অধ্যাপক ডাক্তার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাচার করেছে।’
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘আমাদের কাছে উপজেলা থেকে যে রেজুলেশন পাঠিয়েছে আমরা সেটিই কেন্দ্রে পাঠিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সভা ছাড়াই রেজুলেশন এবং অনিয়ম হয়ে থাকলে ভুক্তভোগিরা কেন্দ্রে অভিযোগ দিতে পারেন।’

আপনার মতামত লিখুন :