চৌগাছার পশুহাট নিয়ে টানা হেঁচড়ায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

25

চৌগাছা(যশোর)প্রতিনিধি:দীর্ঘদিন ধরে যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি পশুহাট নিয়ে পার্শ্ববর্র্তী ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কতিপয় ব্যক্তি এই পশুহাটকে ঘিরে টানা হেঁচড়া করে আসছেন। এই পশুহাটের ওপর তারা একের পর মামলা করছেন। এরফলে এই পশুহাটের নির্ধরিত ইজার সময় উত্তীর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ইজারা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রতিবছর সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব লোকশান হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ পশুহাটটি উচ্ছেদের জন্য নানা ধরণের ষড়যন্ত্র করা হলেও পৌর মেয়রের সার্বিক প্রচেষ্টায় এখনও বহাল রয়েছে।

জানাযায়, ১৯৭৭ সালে থানা গঠনের পর হতে পশুহাটটি চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের পাশে সরকারী ভূমি অফিসের জমিতে বসত। সময়ের ব্যবধানে উপজেলার পরিধি বেড়েছে। এর আগে থেকেই এ উপজেলার একমাত্র পশুহাটটি চলে আসছে।

সম্প্রতিকালে, ভূমি অফিসের জায়গায় জমি সংকট দেখা দিলে পৌর কর্তৃপক্ষ পশুহাটটি স্থানান্তরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই মোতাবেক পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে চৌগাছা-মহশেপুর সড়কে কংশারীপুর ঋষিপাড়া সংলগ্ন জমি ক্রয় করে পশুহাট সেখানে স্থানান্ততর করেন। শিল্প কলকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বপরি সকল মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পৌর কর্তৃপক্ষ পশুহাট শুক্র ও সোমবারের পরিবর্তে রবি ও বুধবার দিন ধার্য করেন। কিন্তু এতেই বাঁধসাধে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পশুহাট মালিকরা।

মহেশপুরে ৫টি পশু হাট থাকা সত্বেও তারা চৌগাছার একমাত্র পশুহাটটি উচ্ছেদের জন্য নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন বলে জানান এলাকাবাসি ও গরু ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নানাবিধ চক্রান্তে সফল না হয়ে তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। তারপরও পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেলের নেতৃত্বে চৌগাছার আপামর জনতা হাটকে ফিরে পেতে নিরলস ভাবে কাজ করেন।

চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্যের ঐকান্তি প্রচেষ্ঠায় পুনারায় পশুহাটটি কংশারীপুর নতুন স্থানেই চলতে থাকে। পশুহাটের সাথে সম্পৃক্ত সামাউল ইসলাম, আজগার আলী, আবু কালাম, রিপন হোসেন, মহিদুল ইসলাম, হাফিজুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, পাশ্ববর্র্তী ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কতিপয় ব্যাক্তি এই পশুহাটটি নিয়ে টানা হেঁচড়া করে আসছেন। এরফলে এই পশুহাটের নির্ধরিত ইজার সময় উত্তীর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ইজারা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এরফলে সরকার প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে পশুহাটের সাবেক ইজারাদার ডাবলু দেওয়ান বলেন, পশুহাটটি আমাদের এলাকার গরু ব্যবসায়ীদের প্রধান হাট। এই হাটে অর্ধশত মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। কিন্তু আদালতে মামলার কারণে দুই বছর ধরে হাট দেয়া ইজারা বন্ধ রয়েছে। আমরাও বেশ কষ্টে আছি।

পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, আমরা চৌগাছাবাসীর কথা বিবেচনা করে পশুহাট স্থানান্তর ও দিন পরিবর্তন করেছি। এটা তো আমাদের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু এতে পার্শ¦বর্তী মহেশপুরের কতিপয় ব্যক্তি চরম বিরোধীতা করে আসছে। তারা একের পর এক মামলা করে হাট ইজারা বন্ধ করে রেখেছে। চৌগাছায় যেহেতু একটি মাত্র পশুহাট। তাই এই হাট কিভাবে চলবে তা শুধুমাত্র চৌগাছাবাসী নির্র্ধারণ করবে। তিনি আরও বলেন, মহামান্য আদালত বিষয়টি বিবেচনা পূর্বক পশুহাটের উপর যত মামলা আছে তা দ্রুতই মিমাংসা করে হাটটি ইজারার ব্যবস্থা করবেন।