চেক জালিয়াতি:দুদকে যাচ্ছে যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ

প্রতারকচক্রের ভেতর ভাঙন, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে জড়িতদের এখন একটাই টার্গেট নিজে বাঁচা

এবিসি নিউজ>এবিসি নিউজ>
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:11 AM, 10 October 2021
যশোর শিক্ষাবোর্ড

যশোর শিক্ষাবোর্ডের আড়াই কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় জড়িত চক্রটি এখন যে যার মতো নিজেকে রক্ষায় নানা কৌশলে এগুচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি ও ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় জড়িতরা ধরেই নিয়েছেন এই অপরাধ থেকে পার পাওয়া কঠিন হবে। যেকারণে এখন চক্রটি একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। ঘটনা ফাঁসেও আগেও তাদের দহরমমহরম সম্পর্ক ছিল-বলছে বোর্ডের অনেকে। চেয়ারম্যানের কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে-এমন দাবি করেছেন শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবুল।

তবে এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহে কোন উদ্যোগ নেয়নি আইন প্রয়োগকারী কোন সৎস্থা। অভিযোগকারীর আশঙ্কা ফুটেজ নষ্ট করা হতে পারে। থানা মামলা না নিয়ে দুদকে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। আরও খবর>>যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেক জালিয়াতির ঘটনায় তোলপাড়

এদিকে আজ রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করবে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের সচিব বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করবেন। তবে শনিবার থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করেনি পুলিশ।

এদিকে, বহুল আলোচিত এই দুর্নীতির ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি পক্ষ দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে এই ঘটনায় জড়িত বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে নিয়ে প্রধান অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন শনিবারও বৈঠক করেছেন। বৈঠকটি তার নিজ কক্ষেই অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠক চলাকালে শিক্ষাবোর্ডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এ সময় বোর্ড অভ্যন্তরে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

বোর্ডের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আড়াই কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় ঘুরেফিরে যে ছয়জনের নাম আসছে তাদের মধ্যে বোর্ডের হিসাব শাখার সহকারী আব্দুস সালাম আত্মগোপন চলে গেছেন। শনিবার চেয়ারম্যান মোল্লা আমির হোসেন অন্য অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত সেকসন অফিসার (প্রশাসন) রাকিব হাসানকে সাথে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন।

চেয়ারম্যান মোল্লা আমির হোসেন বলেন, ‘আড়াই কোটি টাকা দুর্নীতির সাথে প্রাথমিক তদন্তে আমরা আব্দুস সালামের সম্পৃক্ততা থাকার তথ্য প্রমাণও পেয়েছি। আব্দুস সালামের বাড়ি লোক পাঠিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো জানান, দুর্নীতির ঘটনা বোর্ডের পক্ষ থেকে শনিবার থানায় মামলা করতে যাওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। থানা পুলিশ বলেছে- এটা নিয়ে দুদকে মামলা হবে। আমরা দুদকে যোগাযোগ করেছি। রোববার দুদকে যেয়ে মামলা করবো। বোর্ডের সচিব প্রফেসর এএম এইচ আলিয়ার রেজা বাদি হয়ে দুদকে মামলা করবেন।

মামলা আসামি কারা হচ্ছে কাদের জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদকে আসামির নাম দিয়ে মামলা হবে না। আমরা ঘটনা জানাবো। দুদক তদন্ত করে জড়িতদের আসামি করবে।’

২০২০-২১ অর্থবছরের বিভিন্ন মালামাল ক্রয় বাবদ সরকারের ভ্যাটের ১০ হাজার ৩৬ টাকার ৯টি চেক ইস্যু করা হয়। কিন্তু সেই চেকগুলো ব্যবহার করে ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং ও শাহী লাল স্টোর নামে দুইটি প্রতিষ্ঠান বোর্ডের ব্যাংক একাউন্ট থেকে দুই কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা উত্তোলন করে নেয়। মঙ্গলবার বোর্ডের অডিট শাখা থেকে চেকের মুড়ি বইয়ের সাথে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট মেলানোর সময় এই জালিয়াতি ধরা পড়ে।

এদিকে বোর্ডের একাধিক সূত্রের দাবি, দুদক যদি মনে করে প্রতারকচক্রের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না তাহলে শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা ছাড়াও অনেকে ফেঁসে যাবে।

চেক জালিয়াতির হোতা শরিফুল ইসলামসবাবু ওরফে বাবু ইসলামের ব্যাংক হিসাব থেকে এ যাবতকালে কার ব্যাংক হিসাবে কত টাকা গেছে এবং তাদের সাথে সম্পর্ক কী তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বোর্ডের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

যশোরের সচেতন মহলের অনেকে বলছেন, বাবু চেক জালিয়াতির প্রধান অভিযুক্ত হলেও তিনি সাইনবোর্ড মাত্র। নেপথ্যে কে তাকে সহযোগিতা করেছেন এবং রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তা সবাই জেনে গেছে। এখন প্রমাণ করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ।

আপনার মতামত লিখুন :