চীনের উপহারের টিকা ঢাকায় এসেছে

35
সিনোফার্মের টিকা

ঢাকায় এসেছে চীনের  পাঁচ লাখ উপহারের টিকার চালান বুধবার (১২ মে) ভোরে পৌঁছেছে। ঢাকার চীনা দূতাবাস সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

চীনা দূতাবাস সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইট টিকা নিয়ে বেইজিং থেকে ঢাকায় পৌঁছে।

বেলা সাড়ে ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় চীনের পক্ষ থেকে এ টিকা বাংলাদেশেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং গত সোমবার (১০ মে) জানিয়েছিলেন, করোনা মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে। এ লক্ষ্যে পাঁচ লাখ সিনোফার্ম টিকা দেবে। এ টিকা ১২ মে আসবে। কয়েকদিন আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ টিকার অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশে টিকা নিতে যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদের এখন সিনোফার্মের টিকা দেয়া হবে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, চীন থেকে বাংলাদেশ অন্তত পাঁচ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চায়। এজন্য তারা চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে এসব আনতে চায় বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, যারা কোভিশিল্ড টিকা নিতে নিবন্ধন করেছিলেন, কিন্তু টিকার প্রথম ডোজ পাননি, তাদের এখন সিনোফার্মের টিকা দেয়া হবে।

বাংলাদেশে টিকা নেয়ার জন্য এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৯ জন। তাদের মধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত কোভিশিল্ডের টিকা পেয়েছেন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৯১০ জন। বাকিদের সিনোফার্মের টিকা দেয়া হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

এছাড়া নতুন করে যারা নিবন্ধন করবেন, তারাও এই টিকা পাবেন ৷

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন বাংলাদেশের বেক্সিমকোর মাধ্যমে কেনার জন্য ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কেনা এবং উপহার হিসাবে পাওয়া এক কোটি দুই লক্ষ ডোজ টিকা বাংলাদেশে আসার পর ভারত থেকে আর টিকা পাঠানো হয়নি।

তাই এখন অন্যান্য উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সৌমিয়া সোয়ামিনাথান বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানও পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন বিশ্বে যেসব ট্রায়াল চলছে, সেখানে দুই ধরনের দুইটি টিকা নেয়ার পরীক্ষাও করা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত দুই কোম্পানির দুই ডোজ টিকা নেয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হাতে নেই। তবে এখন পর্যন্ত এটাই সুপারিশ করা হচ্ছে যে, যারা প্রথম ডোজ যে টিকা নিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজও সেটা নেবেন।

দুই কোম্পানির দুইটি আলাদা ডোজ নেয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক কমিটি।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান বলছেন, ”বিশেষজ্ঞ কমিটি এক টিকার সঙ্গে অন্য টিকা নেয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। ফলে যারা কোভিশিল্ড পেয়েছেন, তারা সেটাই পাবেন। আর নতুন টিকার ডোজ যারা পাবেন, তারা শুধু সেই টিকার দ্বিতীয় ডোজই নেবেন।’

টিকার সংকট কীভাবে সামলানোর পরিকল্পনা করছে সরকার 

ইতোমধ্যেই সরকার প্রথম ডোজের টিকা দেয়া এবং নিবন্ধন কার্যক্রমও স্থগিত করে দিয়েছে। এখন শুধুমাত্র দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এর আগে বিবিসিকে জানিয়েছিলেন যে টিকার নিবন্ধন সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করা হয়েছে।

“আপনারা জানেন, টিকার চালান চুক্তিমত আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। যে কারণে আপাতত যাদের নিবন্ধন করা আছে, তাদেরই টিকা দেয়া শেষ করতে চাই আমরা।”

কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা আনার ব্যাপারে কূটনৈতিক পর্যায়েও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন আগে জানিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এক থেকে দুই কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দেশের চলমান টিকা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তত ৪০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে টিকা আনার ব্যাপারেও চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া, একটি একটি বেসরকারি কোম্পানি মডার্নার ভ্যাকসিন আমদানি করার জন্য আবেদন করেছে।