চারপাশে ‘ওয়ান টাইম’ চায়ের কাপ আর কাপ:নিশ্চুপ প্রশাসন

26

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি:করোনাভাইরাসের প্রভাবে যশোরের অভয়নগরে ‘ওয়ান টাইম’ চায়ের কাপ সয়লাব। হুমকির মুখে পরিবেশ। নিশ্চুপ পরিবেশ অধিদপ্তর। ‘ওয়ান টাইম’ (প্লাস্টিক) চায়ের কাপ ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পরিবেশ বাদিদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভয়নগর উপজেলা জুড়ে ছোট-বড় প্রায় ৮ হাজার চায়ের দোকান আছে। এসব দোকানে পতিদিন প্রায় এক লাখ কাপ চা বিক্রি হয়। যার ৮০ শতাংশ দোকানী প্লাস্টিকের ‘ওয়ান টাইম’ চায়ের কাপ ব্যবহার করে। ব্যবহৃত কাপ ফেলে হয় যত্রতত্র। অপচনশীল এ কাপ এখন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে হিসেবে প্লাস্টিকের এ চায়ের কাপকে দায়ি করা হচ্ছে।
চায়ের দোকানীরা জানান, ক্রেতাদের চাহিদা ও স্থানীয় পুলিশের চাপে আমরা প্লাস্টিকের ‘ওয়ান টাইম’ চায়ের কাপ নওয়াপাড়া বাজার থেকে ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছি।
উপজেলার পায়রা বাজারের চায়ের দোকানী আব্দুর রহমান, কলিম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন জানান, তাদের চায়ের দোকানে প্লাস্টিকের ‘ওয়ান টাইম’ চায়ের কাপ না থাকায় স্থানীয় ভবদহ পুলিশ ক্যাম্প আমাদের কাঁচের কাপ ভেঙ্গে দেয়। আমরা বাধ্য হয়ে ‘ওয়ান টাইম’ কাপ ব্যবহার করছি। ব্যবহারের পর ওই কাপ যত্রতত্র ফেলার বিষয় জানতে চাইলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান।
বাজারের প্লাস্টি ব্যবসায়ী মঙ্গল কুমার জানান, নওয়াপাড়া বাজারে প্রায় ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ান টাইম’ প্লাস্টিক সামগ্রী বিক্রি করে। প্রতিদিন তারা প্রায় এক লাখ ‘ওয়ান টাইম’ প্লাস্টিকের চায়ের কাপ বিক্রি করছে। প্রকার ভেদে এসব চায়ের কাপ প্রতি পিস ৭০ পয়সা থেকে এক টাকা দরে পাইকারী বিক্রি করা হয়।
পরিবেশবাদি সংগঠনের সদস্য কামরুল হাসান জানান, প্লাস্টিক মানবদেহর জন্য যেমন ক্ষতিকারক, তেমনি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। অবিলম্বে এসব অপচনশীল প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী।
‘ওয়ান টাইম’ চায়ের কাপের ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম মাহামুদুর রহমান রিজভী বলেন, প্লাস্টিক কাপে চা বা গরম পানি পান করলে হার্ট, কিডনী, লিবারসহ ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এসব পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয় পলিমার নামক ক্ষতিকর কেমিক্যাল। যা মানবদেহে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হিসেবে দেখা দেয়। এসব প্লাস্টিকের জন্ম হয় কিন্তু মৃত্যু হয় না। প্লাস্টিকের পরিবর্তে মাটির তৈরি অথবা কাঁচের কাপ ব্যবহার করা উত্তম।
উপজেলা সহককারী কমিশনার (ভূমি) কেএম রফিকুল ইসলাম জানান, পলি ইথায়লিন ও পলি প্রোপাইলিন বা উহার কোন যৌগ মিশ্রণে তৈরি প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫ (৬) এর ‘ক’ ধারা লংঘন দায়ে দুই বছরের জেল বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে। প্লাস্টিক ব্যবহার রোধে ব্যাপক জনসচেতনা সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
শনিবার দুপুরে যশোর পরিবশে অধিদপ্তরের ০৪২১৬০৭৭৪ টেলিফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ করেনি।