চট্টগ্রামে সংঘর্ষ ও হতাহতের মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন:চলছে গণনা

20

এবিসি ডেস্ক:দিনভর উত্তেজনা ও আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে শেষ হলো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুই ব্যক্তি। ইভিএম মেশিন, কেন্দ্রের দরজা-জানালা ও নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। স্থগিত করা হয়েছে দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ। আরও খবর>>চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে সংঘর্ষে প্রাণ গেল দু’জনের

হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষ থেকে।

প্রথমবারের মতো পুরো নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে ইভিএমের মাধ্যমে। এখন চলছে ভোট গণনা।

সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পর ৯টায় নগরের বহদ্দারহাট এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী। অপরদিকে সকাল ১০টার দিকে বাকলিয়া টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রশাসনিক ভবন কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

লালখান বাজারে সংঘর্ষ

বুধবার সকাল ৯টার দিকে ভোট চলাকালে লালখান বাজারের শহীদ নগর সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে সংঘর্ষে জড়ায় তিনটি পক্ষ। আওয়ামী সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল এবং মনোনয়ন বঞ্চিত দিদারুল আলম মাসুমের সমর্থকদের সঙ্গে অন্য একটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ওই এলাকা।

তিন পক্ষের মধ্যে চলা দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দুই কাউন্সিলর প্রার্থী। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

খুলশীতে গুলিতে একজনের মৃত্যু

নগরের খুলশী থানাধীন ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ইউসেফ আমবাগান স্কুল কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী ও বিদ্রোহী প্রার্থী মাহমুদ উল্লাহর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়।

এসময় গুলি লেগে আলাউদ্দিন আলু (২৮) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে বুধবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই ওয়ার্ডের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকালে ভোট শুরুর আগে থেকেই ওয়াসিম উদ্দিনের লোকজন বিভিন্ন কেন্দ্র নিজেদের দখলে নিয়েছে। মধ্যরাত থেকে সন্ত্রাসীরা এখানে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে।’তিনি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, নিহত আলাউদ্দিন তাঁর দলের সমর্থক।

পাহাড়তলীতে ছুরিকাঘাতে কাউন্সিলর প্রার্থী নিহত

বুধবার সকাল ৮টার দিকে নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আমিনের কর্মী সালাউদ্দিন কামরুলের ছুরিকাঘাতে নিহত হন তারই ভাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাবের আহম্মদের কর্মী নিজাম উদ্দীন মুন্না।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) বলেন, সরাইপাড়ায় একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। মৃত্যুর কারণ পারিবারিক বিরোধ কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পাথরঘাটায় দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েক শ উত্তেজিত নারী-পুরুষ ভোটকেন্দ্রে হামলা চালায়। তারা ইভিএম মেশিন, কেন্দ্রের দরজা-জানালা ও নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থনে পুলক খাস্তগির এবং বিএনপির সমর্থনে মো. ইসমাইল কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বেলা ১১টার দিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, পাথরঘাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকেরা কয়েকটি বুথ দখল করে জাল ভোট দিচ্ছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এর পরপরই ৫০০ থেকে ৬০০ উত্তেজিত নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে হামলা চালায়। তারা ভোটকেন্দ্রের সামনে রাখা পুলিশ ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করে। কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে পাঁচটি ইভিএম মেশিন এবং কক্ষের দরজা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। একপর্যায়ে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে।

এই বিদ্যালয়ে নারী ও পুরুষের দুটি ভোটকেন্দ্র ছিল, দুটিই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, প্রার্থীদের সমর্থদের পারস্পরিক সংঘর্ষ ও কেন্দ্রে হামলার কারণে কেন্দ্র দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের মেয়র এবং ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন ২২৬ জন। এর মধ্যে ৩৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন ১৬৯ জন। প্রার্থীর মৃত্যুসহ বিশেষ কারণে বাকি দুই ওয়ার্ডে ওই পদে নির্বাচন হচ্ছে না। সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে নামেন ৫৭ জন।

মেয়র পদে মোট প্রার্থী হন সাতজন। এরা হলেন- নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরী, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন, আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর, মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাতি প্রতীকে খোকন চৌধুরী, চেয়ার প্রতীকে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ এবং হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম।

নির্বাচনে মোট ভোটার ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭২৩ ও নারী ভোটার ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩২৯।