ঘূর্ণিঝড়ে রুপ নিয়েছে অশনিঃতবে ভয়ের কিছু নেই

যশোরে কৃষকের স্বপ্নের ধান ভাসছে বৃষ্টির জলে

ঢাকা অফিসঢাকা অফিস
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:33 PM, 09 May 2022
ফাইল ছবি

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে `অশনি’। আগামী ২৪ ঘণ্টার ভেতর এটি ভারত উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে-পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আশার কথা, ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে ঝড়টি। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশে তাণ্ডব চালানো প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণি বা আম্ফানের মতো ধ্বংসাত্মক হবে না অশনি।

এদিকে যশোরাঞ্চলে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। বিকেল অবদি বৃষ্টি হয়েছে ২৪ মিলিমিটার। প্রথমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলেও বেলা বাড়তেই শুরু হয় মুসলধারে। দুপুরের দিকে ঝিরঝির করে বৃষ্টি হয়। বিকেলে বৃষ্টি থামে। সামান্য এই বৃষ্টিতেও যশোরে অনেক কৃষকের কাটা ধান ভাসছে ক্ষেতে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।

ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে এই বৃষ্টি জানিয়ে যশোর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে রাতেও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক দীপংকর দাশ জানান, এরই মধ্যে ৬০ ভাগ ধান কৃষকের ঘরে উঠেছে। যেসব ধান ক্ষেতে কাটা রয়েছে-তা এখনো খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে আরও বৃষ্টি হলে কৃষক ক্ষতিরমুখে পড়বে।

অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর-আরব সাগর নিয়ে গঠিত উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলে তৈরি ২০২২ সালের প্রথম ঘূর্ণিঝড় অশনি। এর নামটি দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সিংহলী ভাষায় অশনি অর্থ ক্রোধ বা রোষ। তবে ভাগ্য ভালো উপকূলীয় বাসিন্দাদের। অশনির ‘ক্রোধ’ ধীরে ধীরে কমে আসছে!

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) তথ্যমতে, বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৬টার দিকে ঝড়টির অবস্থান ছিল ভারতের বিশাখাপত্তনম থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং পুরি থেকে ৬৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে। সেসময় ঘণ্টায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার বেগে অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোচ্ছিল অশনি।

আইএমডি জানিয়েছে, প্রত্যাশিত গতিবিধি অনুসারে ঝড়টি মঙ্গলবারের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। তবে স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা খুবই কম। ক্রমাগত শক্তি হারিয়ে ঝড়টি আগামী দুদিনের মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

সাধারণত মে মাসে গ্রীষ্মের চূড়ান্ত অবস্থায় বঙ্গোপসাগরের ওপর সৃষ্ট ঝড়গুলো উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী হয়। এসময় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি ও তার শক্তিবৃদ্ধির মতো আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে উষ্ণ সমুদ্র। তবে এখন সামুদ্রিক তাপমাত্রা সেরকম না হওয়ায় অশনি অতটা শক্তিশালী হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৯ সালে ফণি ও তার পরের বছর ভারত-বাংলাদেশ উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছিল সুপার সাইক্লোন আম্ফান। এতে প্রাণ হারান কয়েকশ মানুষ, ধ্বংস হয় অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, গাছপালা। উপকূলের সেই ক্ষত আজও মেটেনি।

তবে ঘূর্ণিঝড় অশনি নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। এটি ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের মতোই উপকূলের কিনারা ছুঁয়ে দুর্বল গতিতে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুসারে, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অশনির শক্তি কমে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার গতির ঝড়ে পরিণত হবে এবং ১২ মের মধ্যে সেটি আরও দুর্বল হয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :