গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫

22

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই। বুধবার (১২ মে) ভোর থেকে গাজার বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে আরও ৭ জন নিহত হয়েছেন। ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে আল-জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার থেকে এ পর্যন্ত নিহত ৩৫ জনের মধ্যে ১০ জনই শিশু। মঙ্গলবার মধ্যরাতে তেল আল-হাওয়া এলাকায় একটি ভবনে বোমা হামলায় চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার চার বছর বয়সী শিশু সন্তান নিহত হয়। তার পাশেই হামলায় ভবন ধসে আরও তিন নারী নিহত হন। এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি। আগের খবর>>ইসরায়েলির বিমান হামলায় ২০ ফিলিস্তিনি নিহত

অপরদিকে ফিলিস্তিনির প্রতিরোধ যোদ্ধা গ্রুপ হামাস গত তিনদিনে ইসরায়েল অভিমুখে ২০০টিরও বেশি রকেট ছুড়েছে। এতে ইহুদিবাদী দেশটিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন ভারতীয় নারীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১১ মে) অবরুদ্ধ উপত্যকা গাজায় ১৩ তলা একটি ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। ‘হানাদি টাওয়ার’ নামের ওই ভবনটি বোমার আঘাতে ধসে পড়েছে। তবে ভবনে থেকে বাসিন্দারা আগেই সরে যাওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ওই ভবনে হামাস নেতাদের রাজনৈতিক কার্যালয় ছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে হামাস যোদ্ধাদের লাগাতর রকেট হামলার মুখে ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘বেন গুরিওন’ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই বিমানবন্দর তেল আবিবের ঠিক পাশেই অবস্থিত। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তেল আবিবে সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে। সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

গত সোমবার (১০ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে গাজা উপত্যকায় সিরিজ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। হামলার প্রথম দিনে তিন শিশুসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়। দ্বিতীয় দিনে তা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে- মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী এবং শেখ জাররাহ এলাকায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইহুদিদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের উত্তেজনা চলছিল। এরমধ্যে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঢুকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়।

পবিত্র রমজানের জুমাতুল বিদা এবং পবিত্র রাত শবে কদরেও আল-আকসায় তাণ্ডব চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা এর প্রতিবাদ করে আসছেন। এরমধ্যেই গত সোমবার প্রতিশোধ হিসেবে হামাস ইসরায়েলে দিকে রকেট হামলা চালায়। তারপর থেকে অব্যাহত বিমান হামলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।

এর আগে সোমবার ভোররাত থেকে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঢুকে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর তাণ্ডব চালায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। এতে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়। এসময় ফিলিস্তিনিদের ওপর রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনারা।

১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে জেরুজালেম ইসরায়েলের দখলে চলে যায়। জেরুজালেম বিজয়ের স্মরণে ১০ মে ‘জেরুজালেম দিবস’ হিসেবে পালন করে ইহুদি জাতীয়তাবাদীরা।