খুলনায় করোনা ইউনিট ফাঁকা

শুরু হচ্ছে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:20 PM, 31 August 2021

বৈশ্বিক মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল খুলনা। বিভাগটির বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক মাস ভয়াবহ আকার ধারণ করে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। জেলায় জেলায় প্রতিদিন করোনায় মৃত্যুর রেকর্ড তৈরি হয়। তবে বেশ কিছু দিন ধরে খুলনায় করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হার কমেছে। এতে চাপ কমেছে হাসপাতালগুলোতেও। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ চিকিৎসাসেবা চালুর কথা ভাবছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

খুলনার তিনটি সরকারি ও দুটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু করা হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে। পাঁচটি হাসপাতালে মোট ৫৬৫টি শয্যা যুক্ত করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ২০০ শয্যা, জেনারেল হাসপাতালে ৮০ শয্যার করোনা ইউনিট, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ৪৫ শয্যা করোনা ইউনিট, বেসরকারি খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯০ শয্যা এবং বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু হয়।

তবে পাঁচটি হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বর্তমানে রোগীর চাপ নেই। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালগুলোর করোনা ইউনিটে ১০৯ জন রোগী ভর্তি আছেন, যা মোট শয্যার ১৯ শতাংশ।

 

রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় খুলনা জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ রোগীর চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ৮০টি শয্যা নিয়ে গত ২০ জুন করোনা ইউনিট চালু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে গত চার দিনে ধরে হাসপাতালের ৮০ শয্যার করোনা ইউনিট কোনও রোগী নেই। হাসপাতালটিতে এখন সাধারণ রোগীর চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী রাশেদ জানান, গত এক মাস ধরে রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে। চার দিন ধরে হাসপাতালে কোনও করোনা রোগী নেই। এ কারণে আমরা অন্যান্য চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন চেয়েছি।

 

সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত চার দিন ধরে ৮০ শয্যার এই হাসপাতালের করোনা ইউনিট রোগীশূন্য। এ অবস্থায় এখানে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা সেবা চালুর জন্য খুলনা সিটি মেয়র ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই এ হাসপাতালে সাধারণ রোগী চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব।

 

খুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খুলনা মেডিক্যালের পিসিআর ল্যাবে ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৫০টি নমুনা খুলনা জেলার। পরীক্ষার রিপোর্টে ৫০ জনের করোনা পজিটিভ আসে। তাদের মধ্যে ৩৬ জন খুলনার। এছাড়া বাগেরহাটের নয়, সাতক্ষীরার এক, যশোরের তিন ও নড়াইলের একজন।

 

আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিট মুখপাত্র ডা. প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, হাসপাতালের ৪৫টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ২১ জন ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন একজন। আর চার জন ছাড়পত্র নিয়েছেন।

 

খুলনা ২০০ শয্যা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, হাসপাতালে ৬৪ জন ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত ২২ জন। আর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ জন ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র নিয়েছেন ২৫ জন। মারা গেছেন একজন। করোনা ইউনিটে কোনও রোগী নেই।

 

গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট মুখপাত্র গাজী মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে মোট নয় জন ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন দুই জন। আর ছাড়পত্র নিয়েছেন একজন।

 

খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ৯০ শয্যায় ২২ জন ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় তিন জন ভর্তি হয়েছেন। আর ছাড়পত্র নিয়েছেন দুই জন।

 

এদিকে খুলনা বিভাগে এখন পর্যন্ত মোট এক লাখ আট হাজার ৮৯৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট মারা গেছেন তিন হাজার আট জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৯৭ হাজার ৩৯৪ জন।

 

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, খুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা অনেক কমেছে। আমরা ইতোমধ্যে খুলনা জেনারেল হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিঠি দিয়েছি। এখানে করোনা প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে। তারাও বিষয়টি দেখছে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে হাসপাতালগুলোতে আগের মতো অন্যান্য সেবা কার্যক্রম শুরু হবে।

 

স্বাস্থ্য

আপনার মতামত লিখুন :