খুলনায় গৃহকর বাকি ৯২ কোটি টাকা

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:59 PM, 05 March 2019

খুলনা সংবাদদাতা: খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ৯২ কোটি টাকা গৃহকর অনাদায়ী রয়েছে। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক গৃহকর অনাদায়ী প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থ বছরে টার্গেটকৃত বকেয়ার পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা।

পড়ুন>>>খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির কর্মসূচি
প্রতিষ্ঠানিক অনাদায়ী গৃহকরের চেয়ে বাড়ির মালিকদের বকেয়া গৃহকর আদায়ে কেসিসি বেশি সোচ্চার হয়েছে। ইতোমধ্যে নগরীজুড়ে জরীপ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৯৫ জন বাড়ির মালিককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে বকেয়া গৃহকর পরিশোধের জন্য ৩ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল কেসিসি। এদের কাছে বকেয়া রয়েছে ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এ সময়ের মধ্যে গৃহকর পরিশোধের জন্য কেসিসির পক্ষে নগরীতে মাইকিং করা হয়। যেসব বাড়ির মালিকরা এ সময়ের মধ্যে বকেয়া কর পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মালক্রোকী অভিযানে নামছে কেসিসি।
কেসিসির কর আদায় শাখার সূত্র জানান, তালিকাভুক্ত বাড়ি মালিকদের কেউ কেউ ১৯৮৬ সাল থেকে গৃহকর দেন না। এছাড়া ২০১২-১৩ অর্থ বছর থেকে গৃহকর বকেয়া রয়েছে ১১টি বাড়ি মালিকের, ২০১৩-১৪ অর্থ বছর থেকে বকেয়া রয়েছে ৯টি বাড়ি মালিকের, ২০১৪-১৫ অর্থ বছর থেকে বকেয়া রয়েছে ৯টি বাড়ি মালিকের, ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে ১১টি বাড়ি মালিকের গৃহকরসহ মোট ৯৫টি বাড়ির মালিকের কর বকেয়া রয়েছে।
কেসিসি’র কর আদায় শাখার প্রধান তপন কুমার নন্দী বলেন, ৫৫ কোটি টাকা প্রতিষ্ঠানিক গৃহকর অনাদায়ী রয়েছে দীর্ঘদিন যাবৎ। তারপরও কর্তৃপক্ষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তাদের বকেয়া গৃহকর আদায়ের টার্গেট দিয়েছে ৩৭ কোটি টাকা। এই টার্গেট পূরণে তারা নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করছে। এজন্য গঠন করা হয়েছে তদারকি টিম। এদের নেতৃত্বে ১ থেকে ৩১নং ওয়ার্ড পর্যন্ত কর আদায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। এবার দু’কোয়ার্টারে (জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত) গৃহকর আদায় হয়েছে ২০ কোটি টাকা। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে এবার টার্গেট পূরণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বকেয়া কর আদায়ে কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চলবে। অভিযান অব্যাহত থাকবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, বকেয়া কর প্রদানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহা আর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপসহ কয়েকটি কারণেই বিপুল অংকের কর অনাদায়ী রয়েছে। এছাড়া মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ, দেউলিয়া ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়াও কর আদায় না হওয়ার অন্যতম কারণ।
কেসিসির প্রধান রাজস্ব অফিসার মোঃ আব্দুর রহমান জানান, বকেয়া গৃহকর আদায়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে মালক্রোকী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, অভিযানে কোনো বাধা আসলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হোল্ডিং ট্যাক্স না দিলে যতই ক্ষমতাধর হোক তার রক্ষা নেই।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :