খাদেমকে হত্যার পর নাম পরিচয় বদলে ফেলে জঙ্গি চান্দু

26

২০১৫ সালে রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম রহমত আলীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করে জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র সদস্যরা। এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় আবদুর রহমান ওরফে চান্দু মিয়া। ঘটনার পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় এই খুনি। সেই সঙ্গে বদলে ফেলে নিজের নাম-পরিচয়। রিকশা চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিল চান্দু। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সোমবার সাভারের গেন্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।

মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুরে এন্টি টেররিজম ইউনিটের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এটিইউয়ের পুলিশ সুপার (এসপি মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস) মোহাম্মদ আসলাম খান এসব তথ্য বলেন। আরও খবর>>রংপুরে খাদেম হত্যায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি চান্দু গ্রেফতার

তিনি বলেন, আবদুর রহমানের বাড়ি রংপুরে। তার শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায়। কুমিল্লাসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে ছিল সে। রিকশা চালানোসহ অন্যান্য ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। সে নিজে খাদেম রহমত আলীকে কুপিয়েছিল। ঘটনার সময় ১৮-১৯ বছর বয়সী ছিল আবদুর রহমান চান্দুর। একটা মসজিদে ইমামতিও করতো এই খুনি।

আসলাম খান বলেন, আবদুর রহমান জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের ছিলেন অর্থদাতা কয়েকজন স্থানীয় কয়েকজন।

হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এটিইউ জানায়, খাদেম রহমত আলী ‘সুরেশ্বরী’ তরিকা পালন করতেন। বাড়ির পাশে তার বাবা-মার কবরকে মাজার ঘোষণা করেন তিনি। তিনি মাজার ও মসজিদ সংলগ্ন একটি দরবার শরীফ তুলে প্রতি বৃহস্পতিবার সুরেশ্বরী তরিকা মোতাবেক অনুসারীদের নিয়ে জিকির করতেন। রহমত আলীর এসব কর্মকাণ্ড জেএমবি সদস্যদের নজরে আসে। তাদের দাবি অনুযায়ী, রহমত আলী একজন ভণ্ড পীর, শিরককারী এবং দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে তাকে হত্যা করা আবশ্যক। তাই তাকে হত্যা করেন তারা।

রহমত আলীর কাউনিয়ায় একটি ঔষধের দোকান ছিল। ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে জেএমবি সদস্যরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জেএমবি সদস্যদের অস্তিত্ব পায়। ঘটনার তদন্ত শেষে ২০১৬ সালে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ।

বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের মার্চে আদালত ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- মাসুদ রানা ওরফে মন্ত্রী, বিজয়, লিটন মিয়া ইসাহাক আলী, চান্দু মিয়া সাখাওয়াত হোসেন ও সারোয়ার হোসাইন। আবদুর রহমান ছাড়া বাকি সবাই জেলে রয়েছেন।

এসপি আসলাম খান বলেন, আবদুর রহমান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে পালিয়ে ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন জেএমবি’র ইসাবা গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবির কয়েকজন সদস্যর নাম জানা গেছে, যারা বর্তমানে গােপনে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।