তাজরিন গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৮০ দিনের অবস্থান কর্মসূচী শেষ হলো পুলিশের পিটুনিতে

70
তাজরিন গার্মেন্টসের শ্রমিকেদের অবস্থান কর্মসূচী শেষ হলো পুলিশের  লাঠিপেটায়

ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে টানা আশি দিন ধরে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থানরত একদল গার্মেন্টস শ্রমিককে পুলিশ পিটিয়ে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তাজরিন গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা বলছে, সোমবার ভোর চারটার দিকে পুলিশ এসে তাদের বেদম পিটিয়ে এবং জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে উঠিয়ে দিয়েছে।

পুলিশ অবশ্য বলছে, সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অুনমতিবিহীন কোন আন্দোলন বা সমাবেশ হবার কথা নয় ঢাকায়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে সেখান থেকে। তবে পিটুনি দেবার কথা অস্বীকার করছে তারা।

আন্দোলনকারী শ্রমিকদের একজন আলেয়া বেগম বলছেন, “ভোর চারটার দিকে হাইকোর্টের দিকের বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়। আমরা সবাই ঘুমাচ্ছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগে ঘুমের মধ্যে আমাদের পেটানো শুরু করে। অনেক পুলিশ ছিল”।

“মহিলা পুলিশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছিল। পেটানোর পরে গ্যাস মারা হইছে, গরম পানি মারছে। আমরা যে যেইদিকে পারি পালিয়ে গেছি।”

আলেয়া বেগম পুলিশের অগ্রসর হওয়ার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, “একদম মৌমাছির ঝাঁকের মতো আসছে।”

জরিনা বেগম নামে আর এক শ্রমিক বলছেন, কুড়ি জনের বেশি শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয়েছে৷ তিনি বলেছেন তাদের সাথে দশ বছরের কম বয়সী দুটি শিশুও অবস্থান করছিল।

গত ৮০ দিন যাবৎ তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ জনের মত শ্রমিক ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিতে ঢাকায় প্রেস ক্লাবের সামনে ফুটপাতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছিলেন।

যাদের বেশিরভাগই নারী। সেখানে রাতে ফুটপাতেই প্লাস্টিক পেতে ঘুমানো ও খাওয়া দাওয়াও করছিলেন।

কয়েকদিন আগে এ-ওয়ান নামে সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া আর একটি কারখানার কয়েকশ শ্রমিক বকেয়া বেতনদের দাবিতে সেখানে অবস্থান শুরু করেন।

২০১২ সালে তাজরিন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০০ জনের বেশি শ্রমিক মারা গেছেন।

সেখানে শ্রমিক সংগঠনের অ্যাক্টিভিস্টদের কয়েকজনও ছিলেন। মাদ্রাসা শিক্ষকদের একটি সংগঠনের কিছু সদস্যও সেখানে আন্দোলন করছিলেন ।

পুলিশের রমনা অঞ্চলের ডিসি মোঃ সাজ্জাদুর রহমান বলছেন, “ডিএমপি কমিশনারের অনুমতি ছাড়া ঢাকায় কোন সমাবেশ করা যাবে না। এটা কদিন আগেই ঘোষণা হয়েছে। তারা কোন অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে সেখানে সমবেত হয়েছে”।

“তারা ওখানে রাস্তা ফুটপাথ দখল করে আছে দীর্ঘদিন ধরে। জনসাধারণের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করছিল। নানা দলে দলে তারা বসেছে। কেউ ৮০ দিন কেউ সাত দিন। আমরা গত কয়েকদিন ধরেই তাদের উঠে যাওয়ার জন্য বারবার বলেছি। কিন্তু লাঠিপেটার কথা মিথ্যা। এমন কিছুই করা হয়নি।”

অন্যদিকে শ্রমিকেরা আজ সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানিয়েছেন। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরিন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০০ জনের বেশি শ্রমিক দগ্ধ হয়ে এবং ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন। বহু শ্রমিক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে গেছেন।