কেশবপুর পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে সংবাদ সন্মেলন

এবিসি নিউজ>এবিসি নিউজ>
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:30 PM, 19 December 2021
যশোরে কেশবপুর মেয়রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একই উপজেলার আলতাপোল গ্রামের আল মামুনসহ ১০ জন ব্যবসায়ী।

রোববার সকালে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আল মামুনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মামুনের শ্যালিকা শারমিন আক্তার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কুলছুম বেগম, কামরুল ইসলাম, সুব্রত, আয়ুব আলীসহ ১০ জন ব্যবসায়ী। তবে, অভিযোগের বিষয়ে মেয়রের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার কোন জবাব পাওয়া যায়নি।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৬২ সালের পর্চা মোতাবেক আলতাপোল মৌজার ৭২ নং জে.এল, ১৩৯৯ নং এসএ খতিয়ানে ২০৩, ২০৪, ২০৫ নং দাগে গন্ধেশ্বরী দেবী, জং নিবারন চন্দ্র সরকার ৫৬ শতক জমির মালিক। ১৯৭৩ সাল থেকে উক্ত দাগের ৫৬ শতক জমির মধ্যে ২৭ শতক জমির উপর ১৫ জন ব্যবসায়ী মাসিক ভাড়াটিয়া হিসেবে দোকান ঘর তৈরি করে ব্যবসা করছেন। সেই সময় গন্ধেশ্বরী দেবীর ছেলে বৈদ্যনাথ সরকারকে ভাড়া করতেন উক্ত ব্যবসায়ীরা। বৈদ্যনাথ সরকারের মৃত্যুর পর ওয়ারেশ সুত্রে তার ছেলে কার্তিক চন্দ্র সরকার ও গনেশ চন্দ্র সরকারকে ভাড়া প্রদান করা হয়। এরই মধ্যে ১৯৭৯ সালে কার্তিক চন্দ্র সরকার ও গনেশ চন্দ্র সরকার সপরিবারে ভারত চলে যান। এরপর থেকে কাউকে আর ভাড়ার টাকা দেয়া হয় না।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় কার্তিক চন্দ্র সরকার ও গণেশ চন্দ্র সরকার সপরিবারে ভারতে চলে যাওয়ার কারনে দখল বুনিয়াদে ১৯৯৭ সালে সহকারি কমিশনার ভূমি বরাবর ১৫০ ধারা মতে ১৫ জন ব্যবসায়ী একটি কেস করেন। এরপর সহকারী কমিশনার ভূমি উক্ত কেস আমলে নিয়ে কেশবপুর ইউনিয়ন তহশীলদারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক ইউনিয়ন তহশীলদার ২৯/১০/৯৭ তারিখে কার্তিক চন্দ্র সরকার ও গনেশ চন্দ্র সরকারের কোন বৈধ ওয়ারেশ না থাকায় ২০০০ সালে মাঠ জরিপের সময় কর্তৃপক্ষ ইউনিয়ন তহশীলদারের প্রতিবেদনের আলোকে দখল স্বত্ত অনুযায়ী ১৫ জনের নামে উক্ত জমির মাঠ পর্চা প্রদান করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী মহল উক্ত জমি নিজেদের দাবি করায় আমরা ব্যবসায়ীরা আদালতের স্মরানাপন্ন হই।

 

এরমধ্যে কেশবপুর উপজেলার দেওলিয়া গ্রামের লুৎফর রহমান ও হাবিবুর রহমান উক্ত জমি নিজেদের দাবি করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। এসব বিষয়ে আমরা আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা করি যা চলমান রয়েছে। সর্বশেষ আমাদের পক্ষ হয়ে মোঃ শাহাবুদ্দিন লুৎফর রহমান গংদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে ১৪৪/১৪৫ ধারায় যশোর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলা নং পি-২৮৫/১৭। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শান্তিপূর্নভাবে ব্যবসায়ীক কর্মকান্ড পবিচালনা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেশবপুর থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১৭ ডিসেম্বর কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়লের হুকুমে মেয়রের ভাগ্নে আলমগীর সিদ্দিকী টিটু, এনামুল হক বাবু, সহ ৩০/ ৩৫ জন সন্ত্রাসী তফসিলভূক্ত জমির একটি হোটেলে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এসময় শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী কুলসুম বিবি ও আইনুদ্দিন মোড়লের মেয়ে রহিমা খাতুন , নূর ইসলামের মেয়ে রেহেনা ও শারমিন লাঞ্চিত হয়। এঘটনায় কেশবপুর থানায় মামলা করতে গেলেও থানার ওসি মামলা নেননি বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
বর্তমানে তারা সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :