কেশবপুরে মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা: দাবি কাউন্সিলরদের

RanaRana
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:57 PM, 07 September 2021

 

জেমস আব্দুর রহিম রানা : 
যশোরের  কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন পৌরসভার কাউন্সিলরবৃন্দ।
মঙ্গলবার দুপুরে কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ১৩টি বিষয় তুলে ধরে এ দাবি করা হয়। প্রেসক্লাবের হলরুমে পৌরসভার প্যানেল মেয়র মনোয়ার হোসেন মিন্টু স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক বি এম শহিদুজ্জামান শহিদ।লিখিত বক্তব্য পাঠকালে বি এম শহিদুজ্জামান শহিদ বলেন, কেশবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আজিজ পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটেশন করে টাকা উত্তোলন, করোনাকালিন বরাদ্দ সঠিকভাবে বন্টন না করা, হাটবাজারসহ অন্যান্য খাতের টাকা অনিয়ম, আর্থিক সাহায্য প্রদানের নামে আতœসাত, এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম, ডিজিটাল স্কীন স্থাপণে অনিয়ম, কিশোর গ্যাং লালন পালন, মেয়রের ঢাকা গমন, পৌরসভায় জনবল নিয়োগ ও টিআর প্রকল্পে অনিয়মসহ ১৩টি অভিযোগ এনে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছেন। এ বিষয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর পৌরসভার মাসিক সভায় যাচাই বাছাই করে দেখা গেছে, তিনি যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, পিপিআর ২০০৬ ও ২০০৮ এর তফশীল-২ এর ৬৯ (১) এবং ৬ এর ক ও গ অনুযায়ী মেয়রকে কোটেশন করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তারপরও তিনি নিয়মিতভাবে মাসিক মিটিং করেন এবং মিটিং এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোটেশনসহ অন্যান্য যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইজিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগ্রহী ঠিকাদাররা দরপত্র দাখিল করেন। এরপর সিপিটিইউ কেন্দ্রীয়ভাবে লটারীর মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করেন। এখানে মেয়র বা কাউন্সিলরদের ঠিকাদার নিয়োগের কোন সুযোগ নেই।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শহিদুজ্জামান বলেন, পৌর এলাকায় কোন কিশোর গ্যাং আছে কিনা সেটা তাদের জানা নেই। মেয়র রফিকুল ইসলামের দায়িত্বকালে পৌরসভায় কোন স্থায়ী জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দকৃত টিআর পৌরসভায় দেয়া হয় না। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে পৌর এলাকায় ১২টি টিআর প্রকল্প গ্রহণ করেন। যার উন্নয়ন কাজ এখনও চলমান রয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র মনোয়ার হোসেন মিন্টু, কাউন্সিলর আতিয়ার রহমান, জিএম কবীর হোসেন, আফজাল হোসেন বাবু, কামাল খান, আব্দুল হালিম, খাদিজা খাতুন ও আসমা খাতুন।এ বিষয়ে খন্দকার আজিজের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, মেয়র রফিকুল ইসলামের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় উল্লেখ করে সরকারের ২৩টি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি। যা সম্পূর্ণ সত্য। ইতিমধ্যে তদন্তও শুরু হয়েছে। আমার অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার কেশবপুরের জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থানীয় সরকার বিভাগ মেয়রের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত করবেন।

আপনার মতামত লিখুন :