কেশবপুরে চোরচক্রের হাতে খুন হয় ইদ্রিস:গ্রেফতার ৬

22

এবিসি নিউজ:যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট এলাকার ভ্যানচালক ইদ্রিস (১৪) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। চলতি বছরের প্রথম দিনের (পহেলা জানুয়ারি) এই হত্যাকান্ডটি সংঘঠিত হয়। কিন্তু কোনভাবে হত্যার ক্লু উদঘাটন করতে পারছিল না পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক চোরচক্রের নাজমুল ইসলাম ইমরান চুরির বর্ণনা দিতে গিয়ে ইদ্রিস হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন । পুলিশকে দেয়া তার ভাষ্যমতে, তারা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ভ্যান চালক ইদ্রিস আলীকে ভাড়া করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরিয়ে পড়ে সুযোগ বুঝে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গুম করে ও ব্যবহৃত ভ্যান গাড়িটি নিয়ে চলে যায় তারা।’
বুধবার চোরচক্রের প্রধান নাজমুল ইসলাম ইমরানের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ইদ্রিস হত্যাকান্ড ও ভ্যান ছিনতাইয়ে জড়িত আরও ৬জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছে, কেশবপুর উপজেলার কন্দপপুর গ্রামের তাকোববার মোড়লের ছেলে নাজমুল ইসলাম ইমরান (২১), মণিরামপুর উপজেলার কাশিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আশরাফ আলী বিশ্বাসের ছেলে সোহেল রানা সুমন (২৩), একই উপজেলার কাশিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আকাম সরদারের ছেলে সাহিদুল ইসলাম সাইদুর (২৮), নড়াইলের লোহাগড়া থানার রামচন্দ্রপুর পূর্বপাড়া গ্রামের জয়নাল মোল্লা বর্তমানে যশোর শহরের ঘোপ বেলতলা ডিআইজি রোডের আতাউর রহমানের বাসার ভাড়াটে আবতাব মোল্লা (৪৫), মণিরামপুর উপজেলার কাশিপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৫০) ও একই উপজেলার তাহেরপুর গ্রামের মোমিন বিশ্বাসের ছেলে আবদুর রশিদ (৫০)। তাদের কাছ থেকে হত্যা মামলার ছিনতাইকৃত ব্যাটারি চালিত ভ্যানসহ ৫টি ভ্যান, ব্যাটারি, চেসিস, ফ্রেম, চাকা, মটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে কেশবপুর থানার মঙ্গলকোট এলাকা থেকে ইদ্রিস আলী (১৪) নামের এক ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই কেশবপুর উপজেলার শ্রীফলা গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে আব্দুল কুদ্দুছ থানায় মামলা দায়ের করেন। হত্যার ঘটনাটি ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় মামলাটি গত ২৭ জানুয়ারি জেলা গোয়েন্দা শাখাকে তদন্তভার দেয়া হয়। এরপর ডিবির ওসি সোমেন দাশের নেতৃত্বে একটি চৌকশ টিম গত ৫ মার্চ মনিরামপুর থানাধীন কাশিমনগর গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাই ভ্যান ক্রয়, বিক্রয়কালে একজনকে চোরাই ভ্যান ও সরঞ্জামসহ হাতেনাতে আটক করেন। এই ঘটনায় মনিরামপুর থানায় একটি মামলা হয়। ঘটনায় পলাতক ভ্যান চোর মনিরামপুরের সোহেল রানা ও কেশবপুরের নাজমুল ইসলাম ইমরানের সন্ধানে নামে ডিবি পুলিশ।
একপর্যায়ে ১৭ মার্চ (বুধবার) দুপুরে যশোর শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকা থেকে চোরচক্রের প্রধান নাজমুল ইসলাম ইমরান, সোহেল রানা সুমনসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে যশোর শহরের ঘোপ বেলতলা ডিআইজি রোড এলাকা থেকে আবতাবকে আটক করা হয়। তার হেফাজত থেকে চোরাই ভ্যান ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কেশবপুরের ইদ্রিস হত্যার ঘটনাসহ একাধিক ভ্যান চুরির ঘটনা স্বীকার করে ইমরান সোহেল চোরচক্র। তাদের স্বীকারোক্তিতে মনিরামপুর তাহেরপুর থেকে রশিদ নামের আরেকজনকে আটক করা হয়। চোরচক্রের প্রধান নাজমুল ইসলাম ইমরান হত্যার ঘটনাস্থলে গিয়ে ইদ্রিস হত্যা ও ছিনতাইয়ের বিস্তর বর্ণনা দেয়।
ইমরান জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ভ্যান চালক ইদ্রিস আলীকে ভাড়া করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘটনাস্থলে নিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। এরপর লাশ গুম করে ও ব্যবহৃত ভ্যান গাড়িটি নিয়ে চলে যায়।