কেজিতেই কিনতে হচ্ছে তরমুজ

তীব্র গরমে তরমুজে প্রশান্তি খুঁজছেন মানুষ

রহিম রানারহিম রানা
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:54 PM, 26 April 2022
বেড়েছে চাহিদা, দাম উঠেছে চূড়ায়

তীব্র গরমে যশোরে তরমুজের চাহিদা বেড়েছে। দামও উঠেছে চূড়ায় । তাও কিনতে হচ্ছে কেজি দরে। দুই’শ টাকার নিচেই নেই তরমুজের পিস। ভাগাভাগী করে কেনারও সুযোগ নেই। এতে বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ।

বৈশাখর তাপদাহে অনেকেই এক ফালি লাল তরমুজ তুলে দিতে পারছেন না সন্তানের মুখে। এনিয়ে ভোক্তাশ্রেণির আক্ষেপের শেষ নেই। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যশোর জেলা প্রশাসনের বৈঠক থেকে কেজিতে তরমুজ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তবে কার্যকর হয়নি। এনিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের কারসাজিকে দুষছেন খুচরা বিক্রেতারা।

 

যশোর কোতোয়ালি থানা সংলগ্ন এলাকায় সিরাজুল ইসলাম ফল ভা-ারের মালিক সিরাজুল ইসলাম  বলেন, বরিশাল থেকে তরমুজ আসে রুপদিয়ায়। সেখান থেকে কিনে বিক্রি করি। পিস ও কেজি দর প্রসঙ্গে তার দাবি সবকিছু ক্রেতার ইচ্ছের উপর নির্ভর করছে।

সার্কিট হাউস সংলগ্ন মুজিব সড়কে ‘না লাভ, ‘না লোকসানে, তরমুজ বিক্রি করছেন সোলাইমান নামে এক ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা। তিনি বলেন, ভ্যাপসা গরম আর তীব্র তাপদাহে প্রাণিকুলে নাভিশ্বাস উঠেছে। এই পরিবেশে এক ফালি লাল তরমুজ প্রশান্তি আনে যেকোন মানুষের মনে। সেই সাথে চলছে রমজান। বেড়েছে রসালো ফল তরমুজের চাহিদা। এরফলে তরমুজ কেনার সামর্থ্য স্বল্প আয়ের মানুষের নেই। এসব বিবেচনা করে কেনা দামেই তরমুজ বিক্রি করছি-দাবি করেন সোলাইমান।

বেজপাড়ার আনসার ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা সোহেল বলেন, বছর দুয়েক খুচরা বাজারে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। এবার তরমুজের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। অস্বাভাবিক দাম হাতিয়ে নিচ্ছে রুপদিয়া কেন্দ্রিক একদল অসাধু তরমুজ বিক্রেতা সিন্ডিকেট। তিনি বলেন, এই দাম ভোক্তাশ্রেণিকে ক্ষুব্ধ করে তুলছে। সন্তানের মুখে এক ফালি তরমুজ তুলে দিতে না পেরে অনেকেই আক্ষেপ করছেন।

 

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, বিপণন আইন ২০১৮ অনুযায়ী ফলের ক্ষেত্রে কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা লাভের সুযোগ রয়েছে। তবে তরমুজের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা হিসেবে বলা আছে কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকার বেশি লাভ করা যাবে না। পাইকারি বিক্রেতারা চাষিদের কাছ থেকে কেজি বা পিস যেভাবে কিনবেন, সেভাবেই তাঁদের বিক্রি করতে হবে।

কিন্তু যশোরে কৃষি বিপণন আইন ভেঙে চড়াদামে তরমুজ বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে তরমুজ কিনতে হচ্ছে ক্রেতা সাধারণের। এ হিসেবে প্রতি পিস তরমুজের দাম দুইশ’ থেকে ৫শ’ টাকা পড়ে যাচ্ছে। এই চড়াদামের তরমুজ কেনার সামর্থ্য অনেকেরই নেই।

যশোর ঘুরে দেখা যায়, স্থায়ী ও ভাসমান ফল বিক্রেতার সংখ্যা অনেক। বিভিন্ন স্থানে তরমুজের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। এ থেকে ধারণা করা যায়, বাজারে তরমুজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে কিন্তু বিশেষ কোনো কারণে দাম কমছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে গরমের ফল তরমুজে প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে। ভিটামিন এ, সি ও বি রয়েছে। এছাড়া এই ফলে রয়েছে লাইকোপেন।
তিনি বলেন, লাইকোপেনের উপস্থিতির কারণে তরমুজের রঙ লাল টকটকে হয়। তরমুজ স্ট্রোকের শঙ্কা কমিয়ে দেয়। উচ্চ রক্তচাপও কমায়। কিন্তু এই ফল এখন কেনার সাধ্য নেই অনেকের।

যশোর যবিপ্রবির পুষ্টিবিদ শিরিন নিগার বলেন, তরমুজে ফ্যাটের পরিমাণ কম। প্রচুর পরিমাণে পানি আছে তরমুজে। তিনিও বলেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে তরমুজের লাইকোপেন মানবদেহের কয়েক ধরনের ক্যানসারের বিরুদ্ধে খুব ভাল কাজ করে।

কেজিতে বিক্রি বন্ধ বন্ধ হয়নি প্রসঙ্গে যশোর ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরফলে অধিকাংশ দোকানে পিস হিসেবে বিক্রি শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :