কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেফতার ৪১

যার ভিডিও দেখে উত্তেজনার সৃষ্টি সেই ফয়েজ আহমেদকেও গ্রেফতার

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:11 PM, 14 October 2021
কুমিল্লায় পুলিশী অভিযানে গ্রেফতার ৪১

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপ ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় চার মামলায় এখন পর্যন্ত ৪১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাতে নগরীর নানুয়ার দিঘীরপাড় ও শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

যার ভিডিও দেখে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল, তাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম ফয়েজ আহমেদ। তাকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে গ্রেফতার করা হয়। আইসিটি আইনে তিনি একমাত্র আসামি। অন্য মামলাগুলোর মধ্যে দু’টি ভাঙচুর ও একটি ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। সবকটি মামলায় পুলিশ বাদী।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আরও খবর>>সহিংসতায় জড়িতদের এমন শাস্তি দেয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস না পায়-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নানুয়ার দিঘীরপাড়ের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল-মাহমুদ স্বপন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের।

এদিন সকাল থেকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একাধিক টহল দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ বিষয়ে আবু সাইদ আল-মাহমুদ স্বপন বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বাংলাদেশের সব ধর্মাবলম্বী মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারী উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে অনভিপ্রেত ঘটনা যেই ঘটাক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

গত মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাতে ওই দিঘীরপাড়ের একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মূর্তির পায়ের নিচে কোরআন শরিফ রাখার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন বুধবার সকালে দু’জন ব্যক্তি ৯৯৯-এ কল করে অভিযোগ করলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আন্ওয়ারুল আজিম কোরআন শরিফটি উদ্ধার করেন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ওইদিন সকাল থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা নানুয়ার দিঘীরপাড়ে জড়ো হয়ে মিছিল করে এবং দু’টি মণ্ডপে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

এর আগে, ডিসি, এসপি ও সিটি মেয়রসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথাও বলেন।

বুধবার দুপুর ১২টার পর উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। জেলা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। উত্তেজিত জনতা মনোহরপুরের শ্রী শ্রী রাজেশ্বরী কালিমন্দির, চকবাজারের মন্দিরে ভাঙচুর, ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ী এলাকার পূজার গেটে ভাঙচুর করে। বিকেলে টমছম ব্রিজেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজিত জনতার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঠাকুরপাড়া এলাকাতেও মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও মিছিলের ঘটনা ঘটে। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০০ জন আহত হন।

একটি সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালেই চিকিৎসা নেন ৬৬ জন।

বড় ধরনের সংঘর্ষের শঙ্কায় বুধবার দুপুর থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। কুমিল্লায় ইন্টারনেট সংযোগ স্লো করে দেওয়া হয়। এর আগে প্রায় ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নও ছিল কুমিল্লা।

এদিকে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের খবরে বিভিন্ন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :