কিভাবে মানি লন্ডারিং হয়-বললেন গভর্ণর

বেশিতে পণ্য কিনে দেখানো হয় কম, বাকি টাকা যায় হুন্ডিতে!

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:43 PM, 01 December 2022
গভর্ণর

আশ্চর্যজনকভাবে দেখলাম ২০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এ রকম ১০০ এলসি বন্ধ করেছি-এভাবেই বললেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

আজ বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ আয়োজিত ৩দিনের বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনের প্রথম দিন তিনি এই কথা বলেন।

 

গুলশানের হোটেল লেকশোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন।

তিনি বৈদেশিক বাণিজ্যে পণ্যের দাম কম বা বেশি দেখিয়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ‘ট্রেড বেজড মানি লন্ডারিং’ বন্ধ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায় ক্ষতি হয় আমরা এমন কোনও এলসি বন্ধ করিনি। আমরা মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছি। যাতে সঠিক দরে পণ্য আমদানি ও রফতানি হয়।

তিনি বলেন, বিলাসী পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে মাত্র। কারণ হচ্ছে, আপাতত এসব বিলাসী পণ্য কম এলেও কোনও সমস্যা হবে না। অতিরিক্ত ও কম মূল্য দেখিয়ে করতে চাওয়া এলসি বন্ধ করে দেওয়া হলেও পরে তা সংশোধন করে প্রকৃত দরে আমদানি করতে চাইলে ব্যবসায়ীরা তা করতে পারছেন বলে জানান গভর্নর।

তিনি বলেন, ওভার ইনভয়েসিং হচ্ছে কিনা, তা দেখতে গত বছর এবং এবছরের অনেক এলসির তথ্য নিয়ে গত জুলাই থেকে যাচাই-বাছাই শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখনই ২০-২০০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে পণ্য আমদানির বিষয়টি তারা জানতে পারেন।

এর আগে, গত ১৫ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেছিলেন, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য অতিরিক্ত দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে মূল্য কম দেখানোর (আন্ডার ইনভয়েসিং) বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে।

পণ্য বাণিজ্যে আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে কিনা—তা যাচাইয়েরও উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, একলাখ ডলারের মূল্যর গাড়ি আমদানি করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার ডলারে। এতে বোঝা যায়, বাকি অর্থ তারা হুন্ডির মাধ্যমে দিয়েছে।’

দেশের বাজারে আপেল বিক্রির উদাহরণ দিয়ে গভর্নর বলেন, বাজারে যে দরে আপেল বিক্রি হচ্ছে, তার চেয়ে কম দরে আমদানি করা হচ্ছে। দর কম দেখানোতে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমছে এখান থেকে। এভাবে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যম পণ্য আমদানি হচ্ছে, যে দর কম দেখানো হচ্ছে, তা হুন্ডির মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। হুন্ডিতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রবাসীদের না পাঠানো রেমিটেন্স।

গভর্নর বলেছেন, কৃষি খাতে অনেক দেশই কম সুদে ঋণ দেয়। এটি সরকারের দিক থেকে করা হয়। আর ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে সিএমএসএমই খাতে সুদহার বড়িয়ে ৯ শতাংশের ‘ক্যাপ’ তুলে দেওয়ার দাবি করা হয়। তখন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টিকে তারা যুক্তি হিসেবে দেখায়। তার মতে, ব্যবসায়ীদের জন্য মেয়াদি ও চলতি মূলধনের ঋণ সুদহারে ৯ শতাংশের সীমা তুলে দেওয়ার সঠিক সময় এখন নয়।

গভর্নর বলছেন, মহামারি পরবর্তী সময়ে যে দুটো সমস্যা অর্থনীতিতে দেখা যাচ্ছে, তার একটি হচ্ছে রিজার্ভ, অন্যটি মূল্যস্ফীতি। এই মূল্যস্ফীতির বৃদ্ধি মুদ্রা সরবরাহ থেকে আসেনি। এটি আমদানি দর বেড়ে যাওয়ার ঘটনা থেকে হয়েছে।

তিনি বলেন, রেমিটেন্স আনা সহজ করতে মোবাইলে আনার সুযোগ হচ্ছে। রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বন্ধ করা হয়েছে। আগামী ৩-৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে। প্রবাসীরা নিজেই রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন। তখন রেমিট্যান্সে একটি বড় উল্লম্ফন দেখা যাবে।

অর্থনীতি

আপনার মতামত লিখুন :