কিছু সরকারী কর্মকর্তা ও পরামর্শকের বিরুদ্ধে তদন্ত চান এফবিসিসিআই সভাপতি

94

                                                এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম

সরকারের কিছু কর্মকর্তা ও পরামর্শকের বিরুদ্ধে তদন্ত চাইলেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। তাঁর অভিযোগ, এসব কর্মকর্তা ও পরামর্শক সরকারের কাছ থেকে টাকা নিলেও সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয় কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেননি, অথবা করেননি। কর হার কমিয়ে আওতাও বাড়ানো হয়নি। বরং এখন নতুন নতুন জটিলতার সৃষ্টি করা হচ্ছে।

নতুন বাজেট নিয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শেখ ফাহিম এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এক শতাংশের জন্য বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ মানুষের ভুক্তভোগী হওয়া উচিত নয়।

এফবিসিসিআই সভাপতি এ প্রসঙ্গটিতে আসেন এবারের বাজেটে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) বিষয়ে কিছু বিধির বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে। ব্যবসায়ীরা ওই সব বিধান নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভ্যাট রেয়াত নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা, উচ্চপর্যায়ের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে নথিপত্র জব্দ করার সুযোগ, ভ্যাট বিরোধ নিষ্পত্তিতে মামলার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের বদলে ২০ শতাংশ অর্থ জমা, টেলিযোগাযোগে ৫০ শতাংশ জমা দিয়ে সালিসে যাওয়া এবং তার ৩০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রণোদনা হিসেবে পাবেন বলে বিধি করা ইত্যাদি।

শেখ ফাহিম বলেন, এ ধরনের আরও ধারা আছে যেগুলো প্রক্রিয়াকে জটিল করবে। স্বচ্ছতা ব্যাহত করবে। দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে। এটি স্বয়ংক্রিয় কাস্টমস, কর-ভ্যাট নীতির পরিপন্থী, যা বাস্তবায়নের জন্য টাকা বাংলাদেশ ইতিমধ্যে দিয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে নাম না নিলেও কার্যত শেখ ফাহিমের আঙুল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ‘রেভিনিউ মোবিলাইজেশন প্রোগ্রাম ফর রেজাল্টস: ভ্যাট ইম্প্রুভমেন্ট প্রোগ্রাম’ শীর্ষক প্রকল্পের দিকে। এটি ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প নামে পরিচিত। এর আওতায় সার্বিক ভ্যাট ব্যবস্থা অনলাইনভিত্তিক করার কথা বলা হয়। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০১৩ সালে নেওয়া ৬৯০ কোটি টাকার ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প এ বছর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনেই ইএফডি যন্ত্র (ইলেকট্রনিক ফিশকাল ডিভাইস) বসানোর কথা। যদিও তা এখনো সম্ভব হয়নি।

শেখ ফাহিম বলেন, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যাট আইন দুই বছরের জন্য স্থগিত করেছিলেন। যাতে এ সময়ে আইনটি রাজস্ব ও ব্যবসাবান্ধব করা যায়। কিন্তু এ সময়ে কর্মকর্তারা কোনো কাজ করেনি। এখনো তাঁদের অনেকের চাকরি আছে এবং একই প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোনো ব্যর্থ পরামর্শকেরা আবারও যোগ দিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এফবিসিসিআই সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তাদের সংশোধনী প্রস্তাব জানানোর জন্য। এ ছাড়া বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রণোদনা প্যাকেজও আলোচনায় আসে।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফাহিম বলেন, ‘এটি একটি মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট।’ তিনি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে কিছু কিছু ব্যাংক সহায়তা করছে না বলে অভিযোগ করেন। তিনি প্রস্তাব দেন, যারা সহায়তা করবে না, তাদের কাছ থেকে সরকারি অর্থ তুলে নিয়ে সহায়তাকারী ব্যাংককে দিতে হবে। আর সহায়তাকারী ব্যাংকগুলোকে আগামী বছরের জন্য ১ শতাংশ করপোরেট করে ছাড় দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘প্রণোদনার বিষয়ে একটি শ্রেণি বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বাধা সৃষ্টিকারক ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান নিশ্চয়ই আছে।’ এফবিসিসিআই সভাপতি ব্যাংকের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকার অঙ্গীকারের কথা বলেন। এর আগে ব্যাংকের তারল্য সমস্যা ও অন্যান্য বিষয় সমাধানে এফবিসিসিআইয়ের নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন। অনেক ব্যাংক যে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে স্ব-উদ্যোগে এগিয়ে আসছে, তাও জানান শেখ ফাহিম। তিনি বলেন, কোনো ইচ্ছাকৃত খেলাপি ও ঋণ কেলেঙ্কারির হোতাকে টাকা দেওয়ার সুপারিশ এফবিসিসিআই করবে না। আর ব্যাংকের ঋণ যাতে আদায় হয়, সে ক্ষেত্রে নানা ধরনের সহযোগিতা করা হবে।