কাশ্মেরী কুল চাষে সফল মাজেদুল:মুগ্ধ কৃষি বিভাগ

21

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি:৫০ শতক জমিতে কাশ্মেরী আপেল কুল চাষ করেছেন মাজেদুল ইসলাম নামের এক যুবক। এতে অন্তত ৪ লাখ টাকা মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন এই চাষী। ইতোমধ্যে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার কুল বিক্রি হয়েছে। আরো ২ লাখ টাকার কুল বিক্রি হবে বলে আশাবাদী এই যুবক চাষীর। এই কুল চাষ করে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন মাজেদুল।
মাজেদুল ইসলাম যশোরের বাঘারপাড়ার দরাজহাট ইউনিয়নের সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের আব্দুল জলিল বিশ্বাসের ছেলে।
সরেজমিনে সৈয়দ মাহমুদপুর মাঠে মাজেদুলের কুল বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, সবুজ পাতার ফাঁকে লুকিয়ে থাকা রসালো কুল দেখতে যেমন মিষ্টি, খেতেও তেমন মজা। এলাকার মানুষের নজর মাজেদুলের কুল ক্ষেতের দিকে। নিরাপদ রাখতে ক্ষেতের চারপাশসহ উপরে নেট জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
মাজেদুল জানিয়েছেন, স্থানীয় মাঠে কাশ্মেরী কুলের চাষ দেখে তিনি এই চাষে আগ্রহী হন। প্রথম পর্যায়ে সাতক্ষীরা জেলা থেকে ৬০ টাকা দরে ২’শ ৫০টি চারা সংগ্রহ করেন। এরপর ৫০ শতক জমিতে ১০ ফুট দুরত্ব রেখে দু’টি জাতের থাই-১ ও থাই-২ চারা রোপন করেন। চারা আনাসহ জমিতে রোপণ পর্যন্ত খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। কঠোর পরিশ্রম আর পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি প্রথম বছর থেকেই ফল সংগ্রহ করতে পেরেছেন।
তিনি আরো বলেন, গত বছরের মার্চে চারা রোপণের আট মাসের মাথায় তার গাছে মুকুল আসে। কুল চাষে তেমন কোন রোগ বালাই না থাকাই ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এবছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কুল বিক্রি শুরু করেন। প্রথম দিকে বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় ১’শ ৩০ টাকা দরে পাইকারী কুল বিক্রি করেন। কুলের মান ভালো হওয়ায় ঢাকার ধামরায় ও নড়াইলের লোহাগাড়ায় বেশ চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন বাগান থেকে ৪’শ কেজি কুল সংগ্রহ করেন। এমনকি একটি গাছে ২ মণ কুল পর্যন্ত পেয়েছি।
তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে কুলের দাম কমে যাওয়ায় ৫০ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি করা হচ্ছে। কাশ্মেরী কুল অত্যান্ত লাভজনক একটি চাষ। কুল চাষ শেষে সেখানে সবজির আবাদ করা হয়। এই সবজি চাষের টাকা কুলের পিছনে ব্যয় করলে সম্পূর্ণ লাভ থেকে যায়। তিনি আরও বলেন, এ চাষে সামান্য পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এখন নিজেই কুলের কাটিং করছেন। পাশাপাশি আরও ৫০ শতক জমিতে কুল চাষ করবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, মাজেদুলের কাশ্মেরী আপেল কুলের চাষটা এ এলাকার মধ্যে ব্যতিক্রম। তিনি যেভাবে নিজ উদ্যোগে চাষ করেছেন তা দেখে কৃষি বিভাগ মুগ্ধ হয়েছে। তাঁর কুল চাষকে সম্প্রসারিত করে কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, মাজেদুলকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।