কাল ২২ মার্চ মণিরামপুরের জয়পুর ট্র্যাজেডি

28

>>আসামি গ্রেফতার করায় পুলিশের ওপর শুরু হয় হামলা
>>চারপাশ থেকে হামলা শুরু হলে আত্মরক্ষায় থানায় ফিরে যায় পুলিশ >>আওয়ামী লীগ পরিবার বেছে বেছে চালায় হামলা লুটপাট অগ্নিসংযোগ >>মসজিদের মাইকে ভূয়া প্রচার দিয়ে জড়ো করাা হয় জামায়াত-বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের

মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি:আজ ২২ মার্চ জয়পুর, সমসকাটি, চান্দুয়া ও ঢাকুরিয়ায় আ’লীগ পরিবারগুলোর ভয়াবহ তান্ডব, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ট্র্যাজেডির দিন। এদিন আসামি ধরাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতা কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মসজিদের মাইক থেকে ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চল থেকে হাজার হাজার নারী পুরুষ এক করে ইটের খোয়া, ধারলো অস্ত্র পাতি, লাঠি, গান পাউডার ও বোমা দিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায় পুলিশ নিজেদের আত্মরক্ষায় তাদের উপর টিয়ার সেল ও গুলি ছুড়তে থাকে। তাতে আনিছুর রহমান নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়। তারপর নেমে আসে আ’লীগ পরিবারগুলোর উপর ভয়াবহ নির্যাতন। আজও কাঁদায় সেই আ’লীগ পরিবারগুলোকে।
২০১৩ সালের ২২ মার্চ পুলিশ সাজাপ্রাপ্ত আসামি ধরতে যায় জয়পুর গ্রামে। সেই ঘটনায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতা কর্মীরা মসজিদের মাইক ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষদের সংঘবদ্ধ করে পুলিশের উপর হামলা চালায়। জয়পুর কাঁচারীবাড়ি দু’পাশে ইটের ভাটা থেকে আদলা এনে বৃষ্টির পানির মতো ছুড়তে থাকে এবং ধারলো অস্ত্র পাতি, লাঠি, গান পাউডার, আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা দিয়ে হামলা করতে থাকে পুলিশের উপর। এক পর্যায় পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল ও গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশের গুলিতে জামায়াত কর্মী আনিছুর রহমান নিহত হওয়ার পর পুলিশের ওপর চারপাশ থেকে আক্রমণ শুরু হয়। এ সময় পিছু হঠতে বাধ্য হয় পুলিশ। পুলিশ থানায় ফিরে যাওয়ার পর জামায়াত-শিবির ও বিএনপি’র লোকজন সংঘবদ্ধ ভাবে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। আ’লীগ পরিবারগুলোতে নারকীয় তান্ডব শুরু করে জামায়াত-বিএনপি’র কর্মী সমর্থকরা। তারা বাড়ি ঘরে লুটপাট ভাংচুর ও মারধর করে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে কেউ বাগানে কেউ মাঠের মধো পালিয়ে যায়। এরফলে জামাত-শিবির ও বিএনপির হাজার হাজার নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধ ভাবে আ’লীগ পরিবারগুলোর বাড়িঘরে গণলুট করে। তারা লুটপাট, ভাংচুর ও গান পাউডার ছিটে অগ্নিসংযোগ করে লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, থালা-বাসন, গোলা ভরা ধান-চাল ও কোরআন শরিফ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে। সেইদিন যারা তান্ডবের চিত্র প্রত্যক্ষ করেন তারা আজও আৎকে ওঠে।
উপজেলা যুবলীগ নেতা ও সাংবাদিক মোন্তাজ হোসেনের বড় মেয়ে রিয়া (১২) ও ছোট মেয়ে ফতেমার (৫) বছর বয়স ছিল। তারা ওই তান্ডব দেখে ভয়ে ফুফাদের বাড়ি হাকোবা গ্রামে চলে যায়। সেই ভয়ে বাড়িতে আসতে চাইনি তারা। সেই ২২ মার্চ ভয়ঙ্কর ট্রাজেডি ঘটনার দিন আজ। এই দিনটা কোন দিন মুছে যাবার নয়।
জয়পুর আ’লীগ নেতা আতিয়ার রহমান জানান, এলাকার জামায়াত ও বিএনপির সন্ত্রাসীরা যেভাবে আ’লীগ পরিবারগুলোর উপর নির্যাতন করেছে তা মানুষের কাজ না। বন্যপশুকেও হার মানিয়েছে সেদিনের তান্ডব। যারা ক্ষয়-ক্ষতি করেছে তাদের নামে অনেক মামলা হয়েছিল। সেইসব মামলা খারিজ হয়ে যাচ্ছে।
ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি মোমতাজ হোসেন মহলদার জানান, আসামি ধরাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর চড়াও হয় জামায়াত-বিএনপির লোকজন। তারা পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পাল্টা-পাল্টি হামলা চালায়। এক পর্যায় পুলিশের গুলিতে ১ জন মারা যায়। সেই ঘটনায় আ’লীগ পরিবারগুলোর ওপর নেমে নারকীয় তান্ডব। লুটপাট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও পিটিয়ে অনেকের পঙ্গু করে দেয় তারা। ক্ষতিগ্রস্ত আ’লীগ পরিবারগুলো মামলা করে আজও বিপদে রয়েছেন।
অথচ সেইদিন ক্ষতির শিকার পরিবারগুলো আজও সরকারি কোন সহযোগিতা পায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রবীণ আ’লীগ নেতা মোসলেম গাজী খোকন জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি কিন্তু ২০১৩ সালের ২২ মার্চ জামায়াত-বিএনপি যে তান্ডব চালিয়েছিল তা পাক বাহিনীর অত্যাচারকেও হার মানায়।