কালীগঞ্জে বিএনপি কর্মীর বাবাকে কুপিয়েছে আ’লীগের সন্ত্রাসীরা

32

কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি:ছেলে না পেয়ে বাবাকে পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের বনখিদ্দা গ্রামে। আহতের নাম নওশের আলী (৫২)। তিনি ওই গ্রামের মৃত হেমায়েত আলী মন্ডলের ছেলে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নওশের আলী জানান, গত ২৬ মার্চ আমার ছেলে সোহেল বিএনপির মিছিলে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও আওয়ামীলীগ নেতা ইকবাল হোসেন কয়েক দফা দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এরপর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মেম্বারসহ ১০ থেকে ১২ জন লাঠি ও রড় নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে খুঁজতে থাকে। এসময় ছেলে বাড়ি না থাকায় আমাকে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে।
অভিযুক্ত মেম্বার ইকবাল হেসেন জানান, সম্প্রতি নওশের আলীর ছেলে সোহেল হোসেন মিছিলে গিয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় কথা বলে। যেকারণে ক্ষুদ্ধ কর্মীরা হয়তো কেউ সোহেলকে খুঁজতে যেতে পারে। তবে তার বাবাকে মারার বিষয়টি আমার জানা নেই।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার এসএম আহসান হাবিব জানান, দু’পায়ে জখম নিয়ে নওশের নামে এক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার পায়ে ফুলো রয়েচে। ভেঙ্গেছে কিনা তা এক্স-রে করার আগে বুঝা যাচ্ছে না। তবে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন-যোগ করেন এই চিকিৎসক।
কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রায় আসা বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর ওই রাতেই আওয়ামী লীগের লোকজন হামলা চালায়। বাড়িঘর ভাংচুরসহ নওশের আলী নামে একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি অনুরোধ করছি।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।