কালীগঞ্জে কৃষক নেতা ওমর আলীর স্মরণসভা

19

>>তাঁর অসমাপ্ত কাজ শেষ করে কৃষি উন্নয়নে এগিয়ে যেতে হবে-নেতৃবৃন্দকালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি:ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের কৃষক নেতা কমরেড ওমর আলীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কার্ড মহিলা সমিতির আয়োজনে বুধবার সকালে উপজেলার মহেশ^রচাঁদা গ্রামে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক হেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন, কোটচাঁদপুর থেকে আগত সাবেক প্রফেসর আতিউর রহমান বাবলু, কৃষিবিদ ডঃ শফিউল্লাহ, যশোর থেকে আগত ওমর আলী বন্ধু কৃষক সংগঠক আব্দুর রাজ্জাক, কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, ওমর আলী কন্যা বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষাণী মর্জিনা বেগম, সাংবাদিক সোহেল আহম্মেদ, এম শাহজাহান আলী সাজু, নয়ন খন্দকার, জাকারিয়া হোসেন, এনামূল হক সিদ্দিক প্রমুখ।
স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, ওমর আলী আজীবন কৃষকের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে গেছেন। তারই কারণে মহেশ^রচাঁদা গ্রাম আদর্শে গ্রামে পরিণত হয়েছে। ওমর আলী কারণেই এই গ্রামে এসেছেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়ার চৌধুরী, বিজ্ঞানী ডঃ গুল হোসেন, দেশি বিদেশি সাংবাদিক, জাতি সংঘের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধি ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের।
বক্তারা আরো বলেন, ওমর আলী ছিলেন স্বশিক্ষায় শিক্ষিত। তিনি আজ থেকে ৩০ বছর আগে অল্প জমিতে কিভাবে অধিক ফসল ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা যায় সে বিষয় নিয়ে কৃষকের সাথে কাজ শুরু করেন। আজ সারাবিশে^ ওমর আলীর দেখানো সেই বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের বিষয়টি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বক্তারা ওমর আলী অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। স্মরণ সভা পূর্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি কালীগঞ্জ শাখার পক্ষ থেকে কমরেড ওমর আলী কবরে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
উল্লেখ্য কমরেড ওমর আলী ৬০ এর দশকে মাও. ভাষানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাপের মাধ্যমে রাজনীতি জীবন শুরু করেন। ৬৮-তে এলাকার জোতদারদের বিরুদ্ধে নদীর জমি দখল ও খাসজমি উদ্ধার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। লাঙ্গল যার জমি তার এ দাবিতেও আন্দোলন করেন। ১৯৭০ এ শ্রেণীশত্রু খতমের আন্ডার গ্রাউন্ড রাজনীতিতে চলে যান। ৭৯-তে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। পরবর্তিতে মেননের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টির জন্মলগ্ন থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এ পার্টির ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। এরপর তিনি কৃষি কাজ শুরু করেন এবং মহেশ্বরচাঁদায় সমবায় ভিত্তিক চাষাবাদ গড়ে তোলেন। যশোর ও ঢাকায় কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে যোগাযোগ করে ও তাদের পরামর্শে এবং সহযোগীতায় মহেশ্বর চাঁদাকে কৃষি উন্নয়নের মডেলে পরিণত করেন। প্রায় ঘরে ঘরে পুকুর কেটে মৎস চাষেরও ব্যবস্থা করেন। কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য নারায়নগঞ্জ প্রেসক্লাব তখন ওমর আলীকে সংবর্ধনা দেন।
কালীগঞ্জের ঘোষনগর সন্মিলনী বালিকা বিদ্যালয় ও মোস্তবাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।