কালিয়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরে দুর্বৃত্তের আগুন

57

>>ওসি বলেছেন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা!
নড়াইল প্রতিনিধি:নড়াইলের কালিয়ায় মাউলী ইউনিয়নের মহাজন উত্তর পাড়ায় দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অমিত বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ২১ মার্চ (রোববার) ভোর রাতে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অমিত বিশ্বাস ওই গ্রামের মৃত রতন বিশ্বাসের ছেলে। এরমধ্য দিয়ে অমিত দম্পতির স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কালিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জহরুল ইসলাম। এতে ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২১ মার্চ (রবিবার) ভোর রাতে অমিত বিশ্বাসের প্রতিবেশী নিমাই বিশ্বাসের ছেলের জন্মদিন পালন শেষে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। আনুমানিক রাত ৩টার দিকে অমিত প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা ৪/৫ জন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত তাকে পিছন থেকে ধরে হাত, পা ও মুখ বেঁধে কিল ঘুষি মেরে ঘরের বারান্দায় ফেলে দাহ্য পদার্থ ঢেলে ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোয়ায় আচ্ছন্ন হলে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে অমিতের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অমিত বিশ্বাস বলেন, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হলে ৪/৫ জন অজ্ঞাত মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা আমাকে পিছন থেকে ধরে হাত, পা ও মুখ বেঁধে কিল ঘুষি মেরে ঘরের বারান্দা ফেলে দেয়। এরপর তারা দাহ্য পদার্থ ঢেলে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি অভিযোগে বলেন, আমি কারো এমন কোন ক্ষতি করিনি কিন্তু কেন আমাকে মারপিট করাসহ ঘরে আগুন দিলো তা বুঝতে পারছি না। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোথায় দাড়াবো?
প্রতিবেশী মদন বিশ্বাস ও বিপ্লব বিশ্বাসসহ অনেকে বলেন, রাত ৩টার দিকে চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।
অমিতের স্ত্রী মল্লিকা বিশ্বাস বলেন, আমি ১০ দিন আগে বাপের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছি। আজ ফোন পেয়ে এসে দেখি আমার সর্বস্ব শেষ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে মাউলী ইউনিয়নের পূজা উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তুষার বৈদ্ধ বলেন, আমাদের মহাজন গ্রামে এমন অনাকাংখিত ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেনি। তবে যে দুর্বৃত্তরা এমন নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ বিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জহরুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনা যে বা যারা ঘটিয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের খুঁজে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সাথে সরকারিভাবে তাদের সাহায্যের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে নড়াগাতি থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন, আগুন দেয়ার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে ওসি তদন্তকে পাঠিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।