কানাডা প্রবাসী সৈয়দ স্বপনের চোখে অতীত ও বর্তমান

76

Last Updated on

এটাই প্রকৃতির নিয়ম পুরাতন যাবে নতুন আগমন করবে।অনেকের হয়ত মনে নেই আজ থেকে ৪০/৫০ বছর আগে এক বেলা খাদ্য জোগাড় করা ৭০-৮০ ভাগ মানুষের খুবই কষ্ট কর ছিল। তখন মানুষ সৃষ্টিকর্তার উপর অগাধ বিশ্বাস ছিল সকল ধর্মের মানুষের। এক- দুজন দুষ্ট প্রকৃতির মানুষের জন্য জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। মানুষ বিভিন্ন বন জঙ্গলে ঘুরে খুঁজে নিত তাদের প্রয়োজনীয় অনেক তরিতরকারি। মানুষ তখনও সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস হারায়নি। তিন শ্রেনীর লোকজন সমাজে ছিল। নিম্নবিত্ত , মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। নিম্নবিত্তের অপরিসীম কষ্ট মধ্যবিত্তরা ব্যালেন্স করত উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষের মধ্যে। আজ সেটা প্রায় ধংসের দ্বার প্রান্তে। ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই একে অপরের ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান প্রদর্শন করত। মানবতা ছিল অনেক ঊর্ধে । ধর্ম বা রাজনীতি কখনো মানবতা বিরোধী ছিল না। ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, রাজনীতির নামে মানবতা বিসর্জনে গেছে। হায়রে অভাগা মানুষ জাতি অদৃশ্য এক ক্ষুদ্র ভাইরাস তোমাদের জীবন মূহুর্তে ধংস করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আজ জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে সেই বিশ্বাস কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। কত নাস্তিকের জম্ম হচ্ছে। যাহা দেখি না তা বিশ্বাস করি না। হায়রে বিবেকহীন জ্ঞানশূন্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় অথর্ব জ্ঞানী পাপিষ্ঠ? করোনা বা কভেড-১৯ কে ৪০-৪০০ গুন বড় না করলে ডিজিটাল অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ছাড়া দেখা যায় না। এটা কিভাবে তোমার বিশ্বাস সম্ভব হল করোনা বা কভেড- ১৯ আমাদের অদৃশ্য ভাইরাস আক্রান্ত করে হত্যা করতে পারে। তুমি এত জ্ঞানী না দেখলে বিশ্বাস কর না? যাও না একটু নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়ে করোনা বা কভেড ১৯ রোগীর সেবা শুশ্রূষা করতে। অহংকার, সুদ, ঘুষ, অবৈধ হত্যা, রাহাজানি, জুলুম, নির্যাতন, ব্যভিচার, সমকামিতা,অবৈধ মেলামেশা, নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার বা খাওয়া ,অপরের সম্পত্তি আত্মসাত্ করা, কোনও ধর্মের কার্যকলাপের গালিগালাজ না করা বা বাঁধা সৃষ্টি না করার জন্য সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ্ আমাদের কঠিন ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু আমরা দিনের পর দিন ঐ কাজ গুলি করার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। যে যত বেশি সৃষ্টিকর্তার নিয়ম ভঙ্গ করে ধর্মের নামে অবৈধভাবে মানুষ হত্যা করতে পারে বিভিন্ন ধর্ম গোষ্ঠীর নাম করে সে ততই ধার্মিক। যে যত বেশি উলংগ ও বেহায়াপনা করতে পারে সে তত বেশি সেলিব্রিটি। যে যত বেশি মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত সে ততই বেশি রাজনীতিবিদ। অল্প কিছু দান দক্ষিণা করে যে যেত বেশি সেলফি ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করতে পারে সে তত বেশি মানবতাবাদী। তার পূর্বের সমস্ত অমানবিক অপরাধ যেন ঢেকে রাখতে চায় সেলফি ও প্রচারের মাধ্যমে। যে যত বেশি অপরাধের সাথে জড়িত সে ততই বেশি ক্ষমতাধর। এক আল্লাহর ইবাদত মনোনিবেশ না করে হাজারো মাধ্যম তৈরী করে সেজদা, প্রার্থনা, ইবাদত ইত্যাদি। অন্য দিকে উন্নত দেশগুলি মানুষ মারার জন্য অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত। কে কার থেকে শক্তিশালী সে প্রতিযোগিতা। এ যেন একমাত্র পরাক্রমশালী সৃষ্টিকর্তা দয়াময় ক্ষমাশীল আল্লাহ্ এর বিপরীতে জ্ঞানী, বুদ্ধি ও বিবেকবান নামধারী মানুষ গুলির হঠকারীতা ও আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা।
তাই তো আল্লাহ্ বলেছেন- মানুষ ভুলে যায়। সেজন্যই আল্লাহ্ একের পর এক মানুষকে গোমরাহীর থেকে বাঁচার জন্য নবী ও রসূলদের প্রেরন করেছেন এই ধরণীতে। আল্লাহ্ মানুষকে তার হুকুম যথাযথ পালন না করার জন্য যথেষ্ট শাস্তি দিয়েছে এই পৃথিবীতে তার কথা যেমন উল্লিখিত আছে পবিত্র ধর্ম গ্রন্থে, তেমনি আজও অনেক শাস্তির নিদর্শন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত এই মানব জাতির। তাই আজ এই পৃথিবী ধংসের দ্বার প্রান্তে মানুষ, তার অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও পরিপূর্ণ ভাবে অপরাধ জনক কাজ থেকে বিমুখ হওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ না হলে একের পর এক এভাবে আসতে থাকবে আমাদের কর্ম ফল আল্লাহর শাস্তি। আল্লাহ্ আপনি আমাদের একমাত্র প্রভু ও সৃষ্টিকর্তা আমরা অপরাধ করেছি, ভুল করে ফেলেছি, আপনিই একমাত্র প্রার্থনা যোগ্য। আমাদের ক্ষমা করুন এবং হেফাজত করুন এই মহামারী থেকে রক্ষা করুন। “আমিন “