কলেজছাত্র হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল মণিরামপুর

17

>>হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের
থানা ঘেরাও>>বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
জেমস রহিম রানা, মণিরামপুর:কলেজ ছাত্র বোরহান কবিরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে মণিরামপুপর। এই নৃশংস হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার মণিরামপুর পৌরশহরে দিনভর শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানববন্ধন করে। আরও খবর>>গণপিটুনিতে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মৃত্যু:আটক এক

গত শনিবার উপজেলার খালিয়া এলাকায় ছিনতাইকারি সন্দেহে বোরহান মারপিটের শিকার হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তির পর রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়। মণিরামপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে বোরহানের সহপাঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
এরআগে রোববার বোরহান হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। পরে থানা পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হলেও পরদিন ফের জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক দৃৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে কয়েক’শ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী অসিসার সৈয়দ জাকির হাসানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
আগের দিন থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভকারীরা বোরহান হত্যাকান্ডে ঝাঁপা ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টুকে দোষারোপ করে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে শ্লোগান দেয়। সেখানে থানার ওসি (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে হত্যাকান্ডের তদন্তে ইউপি চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পেলে অবশ্যই হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সহজ হবে বলে জানান। পরে বিক্ষোভকারীরা থানা ঘেরাও কর্মসূচি স্থগিত করেন। শিক্ষার্থীরা একই দাবি নিয়ে সোমবার দুপুরে ইউএনও অফিসের সামনে মানববন্ধন করে।

নিহত বোরহানুল কবির পৌরশহরের মোহনপুর এলাকার ট্রেকার চালক আহসানুল কবিরের ছেলে। সে মণিরামপুর সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার খালিয়া গ্রামের রাস্তার পাশে কৃঞ্চবাটি গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে নাইম হোসেনসহ কয়েক ব্যক্তি ছিনতাইকারী অপবাদ দিয়ে বোরহানকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করলে আশাপাশের লোকজন এসে বোরহানকে বেধড়ক মারপিট করে রক্তাক্ত করে। পরে খবর পেয়ে বোরহানের অভিভাবকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তির পর পরবর্তিতে তাকে নেয়া হয় যশোর ২শ’৫০ শয্যা হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার রাতেই ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হলে রোববার সকালে চিকিৎসকরা বোরহানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর মোটরসাইকেলসহ প্রধান হত্যাকারী নাইম হোসেনকে আটক করে পুলিশ।