কলারোয়ায় ইট চুরির অপবাদে গৃহবধূকে বেঁধে শ্লীলতাহানী শেষে চুল কর্তন

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:38 PM, 11 August 2021

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:ইট চুরির অপবাদ দিয়ে কলারোয়ায় রাশিদা খাতুন নামে এক দিনমজুর গৃহবধূর চুল কেটে নিয়েছে প্রতিবেশীরা। তাকে একটি খুঁটিতে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন করে। এরআগে তাকে অশালীনভাবে এক যুবক জড়িয়ে ধরে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে গত সোমবার এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে কলারোয়া থানায় ১০ আগস্ট মামলা হয়েছে।
তিনি ভারত প্রবাসী পাকুড়িয়া গ্রামের দিনমজুর ইব্রাহিম গাজির স্ত্রী ও একই গ্রামের সুরাত আলির মেয়ে। তিনি রবিউল ও রুবিনা নামের দুই ছেলে-মেয়ের মা।
রাশিদা খাতুন জানান, ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় তিনি বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় প্রতিবেশী ভ্যানচালক নেদু গাজি তার হাত ধরে টানা-হেঁচড়া করে। এক পর্যায়ে তাকে টানতে টানতে পাশর্^বর্তী আফসারদের বাড়ির মধ্যে নিয়ে যায়। বলা হয় তুই আমাদের ২টি ইট চুরি করেছিস। এনিয়ে বচসা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা তাকে ছেড়ে দেয়। রাশিদা তাদের বলেন সকালে আমি তোদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবো।
রাশিদা বলেন, পরদিন মঙ্গলবার ফের তাকে ওই বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়া মাত্র তাকে বাড়ির সানসেটের সাথে সংযুক্ত খুঁটিতে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে আফসার আলি। এ সময় সে তার দেহের স্পর্শকাতর স্থানে হাত লাগিয়ে উল্লাস করতে থাকে। তিনি জানান, বেঁধে রাখা অবস্থায় বাড়ির মধ্য থেকে বেরিয়ে আসে পারভিনা খাতুন, সাবিনা খাতুন, আনকুরা বেগম, শামীমা খাতুন ও রহিমা খাতুন। তারা জোর করে তার মাথার চুল কাপড় কাটা কাঁচি দিয়ে কেটে দেয়। এ সময় অশোভন ভাষায় গালিগালাজ করে এক পর্যায়ে ছেড়ে দেয় । রাশিদা জানান, আমি দারুণভাবে অপমানিত হয়েছি। তিনি বলেন আমার স্বামী একটানা তিরিশ বছর ধরে ভারতে দিনমজুরির কাজ করেন। আমি দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে বাড়িতে থেকে গরু ছাগল পালন ও পরের জমিতে কাজ করে দিন চালাই। কেঊ কোনোদিন আমাকে কোনো বদনাম দিতে পারেনি। তিনি জানান আমি আমার ব্যবহারের জন্য একটি বাথরুম তৈরি করছি, অন্য জায়গা থেকে ইট কিনে। অথচ দুইটি ইট চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে তারা নির্যাতন করেছে ও চুল কেটে নিয়েছে।
আমি কলারোয়া থানায় মামলা দিয়েছি। আমি ওদের বিচার চাই। রাশিদা আরও বলেন, আমি এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান আবদলি মান্নানের কাছে এর বিচার চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছেন আমার সামনে ইউপি নির্বাাচন। এখন আমি কোনো বিচার সালিশ করতে পারবো না।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খায়রুল কবির জানান, রাশিদা খাতুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দেয়াড়া পুলিশ ফাঁড়ির সাব ইন্সপেক্টর রইসউদ্দিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :