কলামিস্ট ও গবেষক আবুল মকসুদ আর নেই:প্রধানমন্ত্রীর শোক

49

>>এবিসি অনলাইন এক্টিভিস্ট ইউনিটির শোক
এবিসি ডেস্ক:
খ্যাতিমান কলামিস্ট, গবেষক, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ আর নেই। আজ মঙ্গলবার(২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার কিছু সময় পর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান(ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না…রাজিউন)।। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

সৈয়দ আবুল মকসুদের ছেলে সৈয়দ নাসিফ মকসুদ তার বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, বিকালে হঠাৎ করে শ্বাসকষ্টে ভুগলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যার পরপর তিনি মারা যান।

সৈয়দ আবুল মকসুদ দেশের খ্যাতিমান সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও লেখক। তিনি তার গবেষণাধর্মী প্রবন্ধের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বিভিন্ন দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখতেন। তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদদের জীবনী ও কর্ম নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন। পাশাপাশি কাব্যচর্চাও করেছেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা চল্লিশের উপর। বাংলা সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

সৈয়দ আবুল মকসুদ ১৯৪৬ সালের ২৩ অক্টোবর মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার এলাচিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ আবুল মাহমুদ ও মা সালেহা বেগম।

সৈয়দ আবুল মকসুদের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৬৪ সালে এম আনিসুজ্জামান সম্পাদিত সাপ্তাহিক নবযুগ পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে। এটি ছিল পাকিস্তান সোশ্যালিস্ট পার্টির মুখপত্র। পরে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি সমর্থিত সাপ্তাহিক ‘জনতা’য় কাজ করেন কিছুদিন। পরে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বার্তা সংস্থায় যোগ দেন। ২০০৮ সালের ২ মার্চ বার্তা সংস্থার সম্পাদকীয় বিভাগের চাকরি ছেড়ে দেন।

১৯৮১ সালে তার কবিতার বই বিকেলবেলা প্রকাশিত হয়। ১৯৮৭ সালে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ দারা শিকোহ ও অন্যান্য কবিতা প্রকাশিত হয়। মানবাধিকার, পরিবেশ, সমাজ ও প্রেম নিয়ে তিনি কবিতা লিখেছেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রমুখ প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদদের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করেছেন।

আবুল মকসুদের স্ত্রী কলেজ শিক্ষক। মেয়ে জিহান ও ছেলে নাসিফ দুজনই ব্যাংকার।

প্রধানমন্ত্রীর শোক
এদিকে
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার এ তথ্য জানান।

শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুম সৈয়দ আবুল মকসুদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এরআগে সন্ধ্যায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন আবুল মকসুদ।

এবিসি অনলাইন এক্টিভিস্ট ইউনিটির শোক

সৈয়দ আবুল মকসুদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এক্টিভিস্টদের সংগঠন এবিসি অনলাইন এক্টিভিস্ট ইউনিটির নেতৃবৃন্দ। এক বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুনীল ঘোষ, সম্পাদক আব্দুর রহমান, বোর্ড কমিটির এমডি সাংবাদিক সাবিরা ইসলাম, নিউজপোর্টাল এবিসি বাংলা ৭১’র নির্বাহী সম্পাদক এলিজা রহমান, উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি চিন্ময় চক্রবর্তী, জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক মিন্টু দত্ত প্রমুখ।