করোনা কেড়েছে শিশুর শিক্ষা জীবন

সাতক্ষীরায় সংসারের হাল ধরতে ভ্যান চালাচ্ছে শিশুছাত্র:বিভিন্ন পেশায় নেমেছে অনেক শিশু

সাতক্ষীরা ব্যুরোসাতক্ষীরা ব্যুরো
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:13 PM, 25 September 2021
ক্লাস ফাইভের ছাত্র সংসারের হাল ধরতে চালাচ্ছে ভ্যান

ক্লাস ফাইভে পড়তো শিশু সজিব ও রাহাত। সজিবের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগড়দাড়ি আর রাহাতের বাড়ি বাঁশদহা গ্রামে। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় তারা এখন ভ্যানচালক। কদমতলা এলাকার তোহিনুর রহমান ৭ম শ্রেণির ছাত্র। তবে স্কুল ছেড়ে ইজিবাইক চালিয়ে অর্থ উপার্জন করে। এভাবে বাদাম বিক্রেতা, চায়ের দোকান, মোটর সাইকেল মিস্ত্রি, ওয়েলডিং কারখানা, হোটেলে চলছে শিশু শ্রম। দরিদ্র পরিবারের শিশুরা রোজগারের মাধ্যমে পিতা-মাতাকে সংসার চালাতে সহায়তা করছে। সাধারণ মানুষ বলছে এই কাজই একদিন তাদের পেশা হয়ে দাঁড়াবে। এসব শিশুদের স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও দরিদ্রতার কারণে কাজ করতে হয়। আর কাজ না করলে অর্ধাহারে বা অনাহারে থাকতে হয়। শ্রম বিক্রির মাধ্যমে এসব শিশুরা নিজেদের ক্ষুধা নিবারণসহ পরিবারের অন্যদের মুখে দুবেলা দুমুঠো আহার যোগাতে চেষ্টা করছে।

সাতক্ষীরা শহরের হোটেল মালিক সমিতির কর্মকর্তা নুর ইসলাম জানান, হোটেলে টেবিল মুছা ও খরিদ্দারকে পানি দেয়ার জন্য শিশু শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়। এই কাজের বিনিময়ে দৈনিক ৩ বার খাওয়া ও মাসে ৪/৫শ’ টাকা পায়।
শহরের পলাশপোল এলাকার মোটরসাইকেল মিস্ত্রি মহিদুল ইসলাম জানান, কাজের ধরণ অনুযায়ী বয়স্কদের সাথে শিশুদের নেয়া হয়। মোটরসাইকেল গ্যারেজে একজন বয়স্ক শ্রমিককে সহযোগিতা করে দুইজন শিশু শ্রমিক। মোটরসাইকেল ধোয়া মুছার কাজ এদের। শিশুরা শেখার জন্য পেটে ভাতে কাজ করে।
স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত জানান, শিশু শ্রমিক কম বেতনে পাওয়া যায়। অদক্ষ ও সহজলভ্য হওয়ায় সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রতিবাদ করতে পারে না। দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘন্টা কাজ করে। সব মিলিয়ে নিয়োগ কর্তাদের অনেক সুবিধা হয়। এই জেলায় দিন দিন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েইে চলেছে। শিশু শ্রম বন্ধ করতে হলে দরিদ্র শ্রেণির শিশু পরিবার গুলোকে আর্থিক স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক আনিসুর রহিম জানান, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের উন্নয়নের মুল স্্েরাতে ফিরিয়ে আনতে ভাবে। তথ্য সমৃদ্ধ, দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে শিশুশ্রম বন্ধ হবে। ঝরে পরা এসব শিশুদের স্কুলে পাঠানোর জন্য সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস জানান, শ্রমজীবি শিশুদের নিয়ে তাদের কোন কার্যক্রম নেই। শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আসলে সে বিষয়টি দেখে থাকেন। শিশু শ্রমের বিষয় নিয়ে কাজ করেন কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর। তবে সাতক্ষীরায় তাদের কোন অফিস নেই।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির জানান. শিশু শ্রম বন্ধ করার কোন উদ্যেগ নেই। তবে শিশু নির্যাতনের স্বীকার হলে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।

আপনার মতামত লিখুন :