করোনায় বাস ভাড়া বাড়ালেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

18

করোনায় বাস ভাড়া বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গণপরিবহন চালাচ্ছেন টাঙ্গাইলের চালকরা। তবে সাধারণ যাত্রীদের মাঝেও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা দেখা যায়নি। ফলে পূর্বের নিয়মেই অধিকাংশ গণপরিবহনে যাত্রীসেবা দিচ্ছে। এতে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যাত্রীরা।

এদিকে জেলা প্রশাসক বলছেন, গণপরিবহনসহ সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, গত বছর করোনার পরিস্থিতিতে গণপরিবহনগুলোতে স্বাস্থবিধি মেনে চলাচলের নির্দেশ দিয়ে পরিবহনগুলোর ভাড়াও বৃদ্ধি করেছিল সরকার। সেসময় টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা যেতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস সকাল-সন্ধ্যা ও সোনিয়া পরিবহনে ২৫০টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ টাকা এবং ধলেশ্বরী ও ঝটিকা সার্ভিসে ১২০টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে।

পরবর্তীতে ভাড়া কিছুটা কমালেও আগের ভাড়ায় আর ফিরে যায়নি পরিবহনগুলো। সম্প্রতি দেশে আবারও করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকার পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা দিলেও গণপরিবহনগুলো ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করছে, ঠিকই কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুই সিটে একজন যাত্রী বহনসহ অন্যান্য নির্দেশনা মানছেন না। জেলায় ৪ শতাধিক যাত্রী পরিবহন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ শতাধিক বাসকোচ মিনিবাস প্রতিদিন ঢাকা টাঙ্গাইল রোডে চলাচল করে থাকে।
যাত্রীরা অভিযোগ করে বলছেন, সব কিছু স্বাভাবিক নিয়মে চললেও শুধুমাত্র যাত্রী পরিবহনে ভাড়া বাড়িয়েছে। এতে জনসাধারণ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাড়ির লোকজনকে এ বিষয়ে কিছু বললেও তারা বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
চালকরা জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তারা যাত্রী পরিবহন করছে। তবে সড়কে যাত্রী নেই। অনেক সময় লোকজন বেশি টাকা না দিয়ে একসাথে বসতে চায়।

জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারি নির্দেশনা মানছে না চালকরা। গতকাল বিআরটিএ থেকে একটি চার্ট দিয়েছে জেলা বাস সমিতিকে। তবে পরিবার নিয়ে কেউ গাড়িতে গেলে তাদেরকে তো দুই জায়গায় বসতে বলা যায় না। তবে তাদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করতে পারবে না চালকরা।

শুধুমাত্র বাসগুলোতে সরকারি নিয়ম মানতে বাধ্য করলেও ছোট ছোট যানবাহনগুলোতে তেমন প্রভাব পড়ছে না। সিএনজিসহ ছোট ছোট পরিবহনগুলো স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রী পরিবহন করছে।

জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, গণপরিবহনসহ সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য বিধি মানাতে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতার পাশাপাশি আইন মানতে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।