করোনার ছুটি হয়েছে আশীর্বাদ !

20

>>স্কুল বন্ধ থাকায় ছাদে বাগান ও নার্সারী গড়ে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা রোজগার করছেন শিক্ষক মাসুদ
কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি:ছোট একটি ছাদ। বিভিন্ন ফল গাছে ভরা। মরু অঞ্চলের সুস্বাদু ত্বীন ফলসহ বেশ কয়েক প্রকারের গাছে ফল ধরেছে। করোনাকালীন অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর গ্রামের শিক্ষক হাফিজুর রহমান মাসুদ বাড়ির পরিত্যাক্ত আঙ্গিনা ও ছাদে গড়ে তুলেছেন দেশি-বিদেশী দুষ্পাপ্য ফলের বাগান। প্রথমদিকে শখেরবশে শুরু করলেও এখন তা বাণিজ্যিক নার্সারীতে পরিণত হয়েছে। তার ছাদের বাগান দেখতে প্রতিনিয়ত দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। ফেরার সময় কোন কোন ফলের চারা নিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক হাফিজুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত তিনি শুধুমাত্র ত্বীন ফলের চারা বিক্রি করেছেন ৫ লক্ষাধিক টাকা।
শিক্ষক মাসুদ জানান, করোনার প্রাদুর্ভাবে গতবছর মার্চ মাস থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। সময় কাটাতে ছাদে প্রথমে দুইটি লেবুর চারা লাগান। এই দুইটি চারার জন্য তাকে প্রতিনিয়ত ছাদে ওঠা লাগে। তাই তিনি ধীরে ধীরে সংগ্রহ করেন আরও দেশি বিদেশি ফলের চারা। অনলাইনে যাচাই করে দেশের বিভিন্ন নার্সারী থেকে তিনি নানান জাতের ফল ও ফুলের চারার সংগ্রশালা তৈরি করেছেন। তার নার্সারীতে ১৭০ প্রজাতির বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা আছে। এগুলোর মধ্যে পার্সিমন, লং মালবেরি, ইনসুলিন প্লান্ট অন্যতম। এছাড়া কিউজাই, কিং অপ চাকাপাতা, ফোর কেজি, ব্রুনাই কিংসহ বিভিন্ন জাতের আম রয়েছে। হাজারি কাঠাল (হাইব্রিড), থাই বারমাসি কাঠাল, ভিয়েতনামের লাল কাঠাল, ভিয়েতনামের গোলাপি কাঠালের চারাও বানিয়েছেন তিনি। কমলার মধ্যে রয়েছে-দার্জেলিং কমলা, নাগপুরি কমলা, ছাতকি কমলা, মেন্ডারিন কমলা, কেনু কমলা। এছাড়া চায়না-৩ কাগুজে লেবু, এলাচি কাগুজে লেবু, সিডলেচ কাগুজে লেবু, থাই কাগুজে লেবুর চারা রয়েছে এই শিক্ষকের নার্সারীতে। ভিয়েতনামি নারিকেল, কেরালা নারিকেল। বিদেশি ফল ত্বনি, যয়তুন, রামবুটান, ডুরিয়ান, অ্যাভোকাডোসহ ঔষধি গাছ করসল, ইনসুলিন প্লান্ট ,কোরিয়ান জিং সিং, টুরুপ চান্ডাল, সাদা লজ্জাবতি। এছাড়া বিদেশি বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা সংগ্রহ করেছেন। বর্তমানে তার নাসার্রী থেকে প্রতি মাসে যে চারা বিক্রি হয় তাতে খরচ বাদে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয় বলে তিনি জানান।
মাসুদ জানান, তিনি পরিচিত জন ও এলাকার চাষীদের উদ্বুদ্ধ করছেন বিদেশি ফল চাষে। তার প্রেরণায় অনেকে বাণিজ্যিকভাবে ত্বীন ফলের চাষ শুরু করেছেন। তার ছাদ বাগান ও বাড়ির আঙ্গিনায় নার্সারী দেখে এখন অনেকে তাদের নিজ বাড়ির পতিত জমিতে বিভিন্ন ফলের চারা রোপন করছেন বলে তিনি জানান।