করোনাভাইরাস:উচ্চ ঝুঁকিতে দেশের ২৯ জেলা

14

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত একদিনে পাঁচ হাজার ১৮১ জন শনাক্ত হয়েছেন । দেশে করোনা মহামারির গত এক বছরে ২৪ ঘণ্টায় এর আগে এতো পরিমাণ রোগী শনাক্ত হননি ।
আজ সোমবার (২৯ মার্চ) করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর এ তথ্য জানিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৪৫ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে অধিদফতর।
এছাড়া দেশের ২৯ জেলা করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, এর আগে গত বছরের ২ জুলাই চার হাজার ১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। করোনা মহামারিতে সেটাই ছিল বাংলাদেশে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড।
দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে করোনা শনাক্ত হলেন ছয় লাখ ৮৯৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জনের মৃত্যু নিয়ে সরকারি হিসাবে মারা গেলেন আট হাজার ৯৪৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৭৭ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনা থেকে সুস্থ হলেন মোট পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ১৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগ্রহীত হয় ২৮ হাজার ৬৮৮টি। নমুনা পরীক্ষা হয় ২৮ হাজার ১৯৫টি। দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৬ লাখ ১৭ হাজার ২৫টি। তার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৩৫ লাখ ৫৪৮টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখ ১৬ হাজার ৪৭৭টি।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪৫ জনের মধ্যে পুরুষ ৩০ জন এবং নারী ১৫ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত দেশে পুরুষ মারা গেছেন ছয় হাজার ৭৪৬ জন এবং নারী দুই হাজার ২০৩ জন। শতকরা হিসেবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, নারী ২৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।
বয়স বিবেচনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ২৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আট জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে চার জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে আছেন একজন। বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় জন, রাজশাহী বিভাগের পাঁচ জন, খুলনা বিভাগের তিন জন, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে।
এদিকে উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা জেলার মধ্যে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফেনী, চাঁদপুর, নীলফামারী, সিলেট, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, নওগাঁসহ আরও বেশি কিছু জেলা।
অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত তাদের কাছে থাকা রোগীর মাত্রা এবং সংক্রমণের হারের ভিত্তিতে এই ২৯ জেলা নির্বাচন করেছেন তারা।
উচ্চ ঝুঁকির এসব জেলায় সংক্রমণ প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, জেলা পর্যায়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ কমিটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটা সেই কমিটি ঠিক করবে আর অধিদফতর সে বিষয়টি মনিটর করবে।
তবে পুরো দেশেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, প্রথম দিকে নতুন করে সংক্রমণের জেলা ছিল ৬টি, ২০ মার্চ পেলাম ২০ জেলায় আর ২৪ মার্চ পেলাম ২৯ জেলায়। এতে করে বোঝা যায়, সংক্রমণ বেড়েই চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, তারা সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বেশ ‍কিছু সুপারিশ করেছিলেন। সেসব সুপারিশের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।
পরে সংক্রমণের উচ্চ হার, রোগের মাত্রা, রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় স্বাস্থ্য অধিদফতর দেশের ২৯টি জেলাকে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন