কম্পিউটার অপারেটরের ৪৬০ কোটির সম্পদ!

ইচক দুয়েন্দেইচক দুয়েন্দে
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:38 PM, 14 September 2021
ফাইল ফটো

টেকনাফ বন্দর

চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনের কম্পিউটার অপারেটর নুরুল ইসলাম এখন ৪৬০ কোটির সম্পদের মালিক! দালালি,পণ্য খালাস, বৈধ পন্যের আড়ালে অবৈধ মালামাল এনে অল্প সময়েই বেশুমার বিত্তের মালিক বনে গেছেন।

জানা গেছে, দিন হাজিরার ভিত্তিতে টেকনাফ বন্দরে কম্পিউটার অপারেটরের চাকরি নেন নুরুল ইসলাম (৪১)।  চাকরির সুবাদে বন্দর সংশ্লিষ্ট মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তার। একপর্যায়ে গড়েন সিন্ডিকেট। দালালি, পণ্য খালাস, বৈধ পণ্যের আড়ালে অবৈধ মালামালের চালান এনে অল্প সময়েই কোটি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। অবৈধ অর্জিত এই আয়ে ঢাকায়  ৬টি বাড়ি ও ১৩টি প্লট আছে। সাভার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে সর্বমোট ৩৭টি প্লট, বাগানবাড়ি ও বাড়ি রয়েছে। অবৈধভাবে তার অর্জিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা।

অবৈধ টাকায় সম্প্রতি সাভারে একটি রিসোর্ট ও বন্দরে একটি জাহাজ কিনতে চেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরুল ইসলামকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ জাল টাকা, ৩ লাখ ৮০ হাজার মিয়ানমারের মুদ্রা, ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ২ লাখ ১ হাজার ১৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়। তিনি ২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি নেন।

আটক নুরুল টেকনাফ বন্দর কেন্দ্রীক দালাল সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তার সিন্ডিকেটের ১০-১৫ জন সদস্য রয়েছে। এই সিন্ডিকেটটি পণ্য খালাস, পরিবহন সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধ মালামাল খালাসে সক্রিয় ছিল। এছাড়া, কাঠ, শুঁটকি, আচার, মাছের আড়ালে ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য নিয়ে আসতো। চক্রটি টেকনাফ বন্দর, ট্রাক স্ট্যান্ড, বন্দর লেবার ও জাহাজের আগমন-বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ করতো।

খন্দকার আল মঈন বলেন, অবৈধ আয়ের উৎসকে ধামাচাপা দিতে সে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। এর মধ্যে এমএস আল নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এমএস মিফতাউল এন্টারপ্রাইজ, এমএস আলকা এন্টারপ্রাইজ, আলকা রিয়েল স্টেট লিমিটেড এবং এমএস কানিজ এন্টারপ্রাইজ অন্যতম। তার নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১৯টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :